মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ২৫৩ শ্রমিক আটক

দায় নেবে না সরকার

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ২৫৩ শ্রমিক আটক

-ফাইল ছবি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিযান শুরু হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। অভিযানের প্রথম রাতেই এক হাজার ৫৬৫ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ২৫৩ শ্রমিক রয়েছেন বলে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে। তবে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আটক বাংলাদেশির সংখ্যা ২৫৫। এদিকে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক এখনও বৈধ হননি, তাদের দায়িত্ব সরকার নেবে না।
কুয়ালালামপুর থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে সমকালকে বলেন, 'অভিযানে
২৫৩ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।' তিনি আরও জানান, ২০১১ সালে মালয়েশিয়া ২ লাখ ৬৮ হাজার অবৈধ বাংলাদেশিকে বৈধতা দেয়। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই বৈধ। তবে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার জন্য পুনরায় সুযোগ দেওয়ার পরও যারা বৈধ হননি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে দেশটি। গতকাল নতুন করে বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরই রাতে অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়া।
বাংলাদেশি শ্রম কাউন্সিলর অবশ্য জানাতে পারেননি, নতুন করে কতজন বাংলাদেশি বৈধতার জন্য আবেদন করেছেন, কতজন অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছেন এবং কতজনকে দেশটি নতুন করে বৈধতা দিচ্ছে। মন্টু কুমার বিশ্বাস বলেন, 'কেউ কেউ স্টুডেন্ট ভিসায় কিংবা ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় এসে অবৈধভাবে থেকে যান। ফলে অবৈধদের সংখ্যা বলা যাবে না। বাংলাদেশিরা যেসব কোম্পানিতে কাজ করেন, সেসব কোম্পানির মাধ্যমে বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। ফলে কতজন আবেদন করেছেন, তা বলা যাচ্ছে না। দু-তিন দিনের মধ্যে মালয়েশিয়ার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে তা বলা যাবে।' শ্রম কাউন্সিল অবশ্য বলছে, আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন সহায়তা করবে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিবন্ধিতদের বৈধ হতে বেঁধে দেওয়া তিন মাস সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত থেকে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ মালয়েশিয়াজুড়ে এ অভিযান শুরু হয়। দেশটির অভিবাসন বিভাগ, পুলিশ ও পিপলস ভলান্টিয়ার কর্পসের (রেলা) প্রায় ১০ হাজার সদস্য এ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদিকে উদ্ধৃত করে বারনামার খবরে বলা হয়, সারাদেশে মোট ১০৭টি স্থানে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৫ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫৫ জন বাংলাদেশি ছাড়াও ৬৯৫ জন ইন্দোনেশীয় ও মিয়ানমারের ১৫৭ জন নাগরিক রয়েছে। বাকিরা কম্বোডিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, চীন, নাইজেরিয়া ও থাইল্যান্ডের নাগরিক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদি বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান বা যার যার দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে।
বারনামা জানিয়েছে, আটক বিদেশিদের তথ্য ইতিমধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্যভাআর কখনও মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে।
এদিকে, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল রাতে বিবিসি বাংলাকে বলেন, বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক এখনও বৈধ হননি, তারা বৈধ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তিনি বলেন, যারা বৈধ হতে পারেননি, তারা জীবনেও বৈধ হতে পারবেন না। তারা ওই দেশে থাকার সব যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার পরও যদি তারা জেদ করে মালয়েশিয়ায় থাকতে চান তার দায়দায়িত্ব সরকার নেবে না।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বিবিসিকে আরও জানান, কিছু সংখ্যক অবৈধ শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশের শ্রম মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে আর কোনো সুযোগ চাইবে না।
যেসব বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হবে তাদের জন্য কী করণীয় হবে_ এমন প্রশ্নে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ওই সব শ্রমিক মালয়েশিয়ার আইন ভঙ্গ করেছেন। ওই দেশের আইনেই তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।