জুরাইনে স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর জুরাইনে শিহাব সরকার পিয়াস (১৩) নামে এক মেধাবী স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সোমবার রাতে অতিরিক্ত ঘুমের বড়ি খেয়ে সে আত্মহত্যা করে। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরাই এতে জড়িত_ এমন অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার সহপাঠীরা। তারা পিয়াসের বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়েছে। কদমতলী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে।
তবে ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, জুরাইনের মুরাদপুর হাইস্কুল রোডের ৩৮৬ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত পিয়াস। সে স্থানীয় সমিরুন্নেছা হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। সোমবার বিকেলে সে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেক ডাকাডাকি করেও তাকে বাইরে আনা যায়নি। এক পর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় পিয়াসকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে কদমতলী থানার উপপরিদর্শক আশীষ কুমার বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনে পিয়াসের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিয়াসের বাবা হাজি রিপন বলেন, ১৯ জানুয়ারি ছিল তার জন্মদিন। ব্যস্ততার কারণে জন্মদিন পালন করা হয়নি। এতে সে প্রচণ্ড অভিমান করে। এর জের ধরেই সে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে মৃতের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের দাবি, বাবা-চাচারা মিলে তাকে হত্যা করেছেন। তিন বছর আগে তার মাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। সে হত্যাকাণ্ডে হাজি রিপন ও তার ভাইয়েরা জড়িত ছিলেন। ওই হত্যার একমাত্র সাক্ষী ছিল পিয়াস। এ কারণেই তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার গল্প ছড়ানো হচ্ছে।
প্রতিবেশী ব্যবসায়ী হাফিজ বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটে গেলেও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিষয়টি আড়াল করা হয়েছে। সবার ধারণা, পিয়াসকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর দরজা ভাঙার বিষয়টি তুলে ধরে এটাকে আত্মহত্যা বলছে পুলিশ। কিন্তু ওই ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে ঢোকার সুযোগ রয়েছে।
পিয়াসকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সমিরুন্নেছা হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তারা পিয়াসদের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়েছে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় কিছু প্রতিবেশী যুবক। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।