বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন

বেসিক ব্যাংকের ঋণের নথি পাওয়া যাচ্ছে না

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

ওবায়দুল্লাহ রনি

ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ কেলেঙ্কারির কারণে আলোচনায় থাকা বেসিক ব্যাংকের গুলশান ও শান্তিনগর শাখার অনেক নথি গায়েব হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল সম্প্রতি এ দুটি শাখায় পরিদর্শনে গিয়ে অনেক কাগজপত্র খুঁজে পায়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানতে চাইলে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি ফজলুস সোবহান সমকালকে বলেন, শাখার পুরো নথি গায়েবের তথ্য তার জানা নেই। তবে দু-একটা কাগজ হারানো যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।
জানা গেছে, অনিয়মের কারণে ঋণ বিতরণ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিদর্শনে গিয়ে অনেক নথি না পাওয়া ও নিষেধাজ্ঞার পরও ঋণ বিতরণ করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে গত ৪ জুন গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক ওয়ালিউল্লাহকে সাসপেন্ড করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আর গতকাল থেকে শান্তিনগর শাখা পরিদর্শন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে শান্তিনগর শাখায় গিয়ে প্রয়োজনীয় অনেক নথি পায়নি পরিদর্শক দল। গতকাল শান্তিনগর শাখার ব্যবস্থাপক আহমেদ হোসেন প্রধান কার্যালয়ে ছিলেন। এ কারণে শাখা কর্মকর্তারা এর কোনো উপযুক্ত জবাব দিতে পারেননি। আজ আবার এ শাখায় পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। আর শিগগিরই দিলকুশা শাখায় পরিদর্শন শুরুর কথা।
জানতে চাইলে শান্তিনগর শাখার ব্যবস্থাপক আহমাদ হোসেন সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল কয়েকদিন আগে তাদের শাখা পরিদর্শনে গিয়েছিল। তিনি গত ১ এপ্রিল থেকে এ শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সব নথির বিষয়ে তার জানা
নেই।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে বেসিক ব্যাংকের গুলশান, শান্তিনগর ও দিলকুশা শাখায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। বেশকিছু ঋণে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বড় অঙ্কের এ অর্থ বের করে নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাহী হিসেবে এসব অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে গত ২৫ মে ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরের দিন ব্যাংকের গুলশান, শান্তিনগর ও দিলকুশা শাখার ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর ২৯ মে ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পেশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক ওয়ালিউল্লাহকে সাসপেন্ড করার পর থেকে এ শাখার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে আছেন আশরাফ হোসেন। এ বিষয়ে জানতে রাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কোনো কথা না বলেই ফোন কেটে দেন।