সম্পূরক বাজেট পাস

আর্থিক খাতে কেলেঙ্কারির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে :অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

বিশেষ প্রতিনিধি

আর্থিক খাতে কেলেঙ্কারি বিষয়ে 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় সংসদে তা পেশ করা হবে। গতকাল রাতে সম্পূরক বাজেট পাসের আগে সংসদকে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে কিছু কেলেঙ্কারি হয়েছে। এটা খুবই লজ্জাকর ব্যাপার। বিষয়টি আমার জন্য আরও লজ্জাজনক এই কারণে যে, এসব দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনেই। উচিত ছিল বাজেটে কিছু বলা। সময়ের অভাবে তা করা যায়নি।
তিনি স্বীকার করেন, সামরিক ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি বাজেটে। আগামীতে প্রতিরক্ষা খাতওয়ারি ব্যয়ের বিবরণ বাজেটে উল্লেখ করা হবে বলে জানান তিনি। শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনায় জাতীয় পার্টির এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ ব্যাংকিং খাতের হলমার্ক কেলঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। এসব বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান তিনি।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজস্ব খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের 'সম্পূরক বাজেট' পাস করা হয়। অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, একমাত্র তাদের সরকারই সম্পূরক বাজেটের ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বছরে এক কোটি টাকা কর দেন_ এমন লোকের সংখ্যা
মাত্র ৫০ জন। এর চেয়ে বেশি কর দেওয়ার সামর্থ্য দেশে আরও অনেকেরই রয়েছে। বিত্তবানদের কীভাবে বেশি করে করের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির
শ্বেতপত্র প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা সত্যি যে, ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়মের কারণে কিছু প্রভাব পড়েছে। ফলে সংকটও তৈরি হয়েছে। যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে তাতে বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হবে। পাশাপাশি সংকট মোকাবেলার কৌশল দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, একটি প্রশ্ন উঠেছে_ প্রতিরক্ষা বাজেটের বিস্তারিত বিবরণ হয় না। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট সম্পর্কে ব্যয়ের যে বিভাজন ব্যবহার করা হয়, সেটা এ ক্ষেত্রে হয় না। এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, 'আমাদের দেশে একটি ট্র্যাডিশন গড়ে উঠেছে। ক্ষমতার অবৈধ দখল ও পরিবর্তনের কারণে এটি গড়ে উঠেছে। যেটা মোটেই সুস্থ লক্ষণ নয়।
গতকাল সংসদে চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৮ হাজার কোটি ৬৬ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় অনুমোদন করা হয়। মোট ৫৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে চলতি অর্থবছর ১৯টি মন্ত্রণালয়ের উলি্লখিত পরিমাণ বাড়তি ব্যয় হয়েছে। এ সব মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল সংশোধিত বাজেটে সেই ব্যয় বেড়ে গেছে। বাকি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে মূল বাজেটে বরাদ্দ অপেক্ষা সংশোধিত বাজেটে তা কমেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংশোধিত বাজেটে যে পরিমাণ ব্যয় বাড়ে তা সংসদে অনুমোদন নিতে হয়। গতকাল সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদ।