হঠাৎই সরে গেলেন জেনিফার লোপেজ!

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

স্পোর্টস ডেস্ক

চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আছে নানা টানাপড়েন। অনেক কিছুই এখনও বিশ্বকাপের মানের মতো করে প্রস্তুত হয়ে ওঠেনি। আয়োজকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। এরই মধ্যে আরেকটি 'দুঃসংবাদ' শুনতে হলো তাদের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
গান গাইবেন না বিশ্ব বিখ্যাত তারকা জেনিফার লোপেজ!
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত 'ওলে ওলা' (আমরা সবাই এক) গানটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অনুশীলন করছিলেন লোপেজ, পিটবুল, ব্রাজিলিয়ান শিল্পী ক্লদিয়া লেইট্টে ও ড্রামার গ্রুপ ওলোডাম। ইতিমধ্যে গানটি ধারণ করে ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছাড়াও হয়েছে। কিন্তু সরাসরি লোকসমক্ষে গানটি গাওয়ার চার দিন আগেই 'প্রযোজনাজনিত কারণ' দেখিয়ে সরে গেলেন লোপেজ। লোপেজ অংশগ্রহণ করছেন না, এমন তথ্য দিয়ে তার এক প্রতিনিধি বিবৃতিতে জানিয়েছেন_ 'বিনয়ের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে, জেনিফার লোপেজ এই বছরের বিশ্বকাপের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন না।' এর বেশি আর কিছুই ওই বিবৃতিতে জানানো হয়নি। যদিও গত সপ্তাহেই লোপেজ জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারটি নিয়ে তিনি শিহরণ অনুভব করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন এ সঙ্গীতশিল্পী বলেছিলেন, 'এটা বৈশ্বিক ঐক্য, প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়ার এক বিস্ময়াভূত উদযাপন।'
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ফিফাও এক বিবৃতিতে লোপেজের অংশগ্রহণ না করার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে_ প্রযোজনাজনিত কারণে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত 'আমরা সবাই একে'র অন্যতম শিল্পী জেনিফার লোপেজ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।' এর আগে লোপেজ গত জানুয়ারিতে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ফিফার কর্মকর্তাদের সঙ্গে গানটির পরিকল্পনা জানানোর বৈঠকেও পিটবুল ও লেইট্টের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ২৫ মিনিটের। স্বাভাবিকভাবেই এখানে ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতিকে তুলে ধরারই চেষ্টা করা হবে। যদিও ব্রাজিলিয়ানদের তরফ থেকেই অভিযোগ রয়েছে যে, বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সঙ্গীতটিতে ব্রাজিলের আবহ খুব একটা আসেনি। এখানে ইংরেজি ও স্প্যানিশই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। তা ছাড়া ব্রাজিলের শিল্পী লেইট্টে অংশগ্রহণ করলেও তিনি শেষ দিকে মাতৃভাষা পর্তুগিজে মাত্র কয়েক সেকেন্ড গেয়েছেন। প্রথমত স্বাগতিক ব্রাজিলিয়ানদের অপছন্দ ও দ্বিতীয়ত সরাসরি সম্প্রচারিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লোপেজের মতো জনপ্রিয় তারকার অনুপস্থিতি গানটিকে আরও অজনপ্রিয় করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার পরও অবশ্য আয়োজকরা আশাবাদী যে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দুর্দান্তই হবে। সেটারই ইঙ্গিত রয়েছে গানটির অন্যতম শিল্পী পিটবুলের ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে। লোপেজের না থাকার কারণে তার উদ্দীপনায় ঘাটতি হবে না বলে ওই বিবৃতিতে জানিয়েছেন আমেরিকান এ র‌্যাপার গায়ক_ 'বিশ্বের সামনে ওলে ওলা গানটি গাওয়া, বিশেষত ব্রাজিলের মতো সুন্দর এক দেশে, আনন্দের সীমা অতিক্রম করছে। তবে, তার চেয়েও বড় কথা হলো, এ গানটি বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে যাচ্ছে যে, সঙ্গীত একটি সর্বজনীন ভাষা।'
আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ১৫ মিনিটে ব্রাজিলের অ্যারেনা ডি সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন ৬০০ জন কুশলী। যাদের মধ্যে থাকবেন জিমন্যাস্ট, ট্র্যাম্পোলিনিস্ট, ব্রাজিলিয়ান মার্শাল আর্টিস্ট, কাষ্ঠদণ্ডের ওপর হাঁটা মানবেরা। এ অনুষ্ঠানে গান থাকবে। নাচ থাকবে। পাশাপাশি থাকবে শারীরিক কসরতবিদদের প্রদর্শনী। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন ডাফনে করনেজ। তিনি জানিয়েছেন, 'উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পুরোটাই ব্রাজিলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। ব্রাজিলের সম্পদ, প্রকৃতি, মানুষ, ফুটবল সবই থাকবে। এখানে উত্তেজনার পারদটা বিস্ময়কর এবং প্রতিটি মানুষই বেশ উৎফুল্ল। সব ক্লান্তি পেছনে ফেলে সবাই এগিয়ে চলেছে, যা অভিভূত হওয়ার মতো।'
ব্রাজিলকে কুশলীরা নৈপুণ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজসজ্জা দিয়ে তুলে ধরবেন; যার কেন্দ্রে থাকবে একটি এলইডি বল। বলটিকে ৯০ হাজার আলোকরশ্মি দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, দেখে মনে হবে, কোনো এক জীবন্ত বস্তু ঘুর্ণনরত আছে। এ ছাড়া উদ্বোধনী পর্বে আরও একটি বিস্ময়কর জিনিস দেখা যাবে এবার। যেটি হলো রোবট! বিশ্বকাপের বল মাঠে গড়ানোর আগেই বলে শট নেবে এই ধাতব-মানব। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিওরোসায়েন্টিস্ট মিগুয়েল নিকোলেলিস ও তার গবেষক দল এই ধাতব বহিঃঅঙ্গ (রোবটিক এক্সোস্কেলেটন) তৈরি করেছেন। যেটি পরলে যে কোনো পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক মানুষের মতো সয়ংক্রিয়ভাবে হাঁটতে পারবেন। কৃত্রিম চামড়ার মাধ্যমে পায়ের ডিভাইসের ইলেকট্রনিক সার্কিটগুলো ফিরতে সংকেত দিলে মানবটি নড়াচড়া ও যোগাযোগের সংবেদনশীলতা অর্জন করবে। ডিভাইসটির নাম রাখা হয়েছে 'ব্রা-সান্তোস দুমোঁ'। ব্রাজিলের নামের প্রথম তিন অক্ষর নিয়ে 'ব্রা' ও বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান বৈমানিক ও আবিষ্কারক সান্তোস দুমোঁর নাম যুক্ত হয়ে এই অভিধা।
ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র ২০ মিনিট আগে শেষ হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তাই মাঠকে খেলার উপযোগী রাখতে এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুব ভারি আলোকসজ্জার উপাদান ব্যবহৃত হবে না। যার কারণে পুরো উদ্বোধনী পর্বটাই আবর্তিত হবে নৃত্য, গান, সেট, কল্পজগতের উপাদান, শব্দ বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে। পুরো অনুষ্ঠানটির চিত্ররূপ লিখতে সময় লেগেছে প্রায় আড়াই মাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর আগের ২০ ঘণ্টা পুরোপুরি মহড়ায় ব্যস্ত থাকবেন কুশীলবরা। বোঝাই যাচ্ছে, বিতর্ক আর না-পাওয়াগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে ব্রাজিলে এখন শেষের প্রস্তুতিতে মগ্ন। পুরো বিশ্বই এখন 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে'র উদ্বোধনের অপেক্ষা!