শুভ জন্মদিন মেসি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪      

ফার্নান্দো পাচিনি

ইরানের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু শ্বাসরুদ্ধকরই নয়; রীতিমতো ভীতিজাগানিয়া হয়েই দাঁড়িয়ে ছিল। মেসি, হিগুয়াইন, আগুয়েরোদের একের পর এক আক্রমণও ইরানের জাল খুঁজে পাচ্ছিল না। অথচ, লিওনেল মেসিই কি-না হঠাৎ স্বস্তি এনে দিলেন। শেষ মুহূর্তের ওই গোলটি যেন মেসির জন্য বিশাল এক উপহার হয়েই এসে ধরা দিল। আজ যে লিওর ২৭তম জন্মদিন!
গোলটি ছেলে থিয়াগোকে উৎসর্গ করলেও তা শুধু মেসিরই সম্পত্তি। এমন এক মুহূর্তে তিনি গোলটি করলেন, যখন সবাই আর্জেন্টিনার জয়ের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। এ সময়ে জয়ের আশা করা যায় শুধু মেসির কাছ থেকেই। বসনিয়ার বিপক্ষেও লিও ছিলেন জয়ের নায়ক। তার কারণে এখন আর্জেন্টিনা নকআউটে। এমন কৃতিত্বের পর শুধু মেসিদের জন্যই মানায় উৎসব করাটা। আওরো মিনাস হোটেলে তাই মেসিদের দেখা গেছে আর্জেন্টাইন ব্যান্ড দল লজ তোতোরার গান শুনে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাতে।
আজ বেলো হরাইজন্তের হোটেলে জন্মদিনের বিশাল কেক কেটে মেসিকে শুভেচ্ছাও জানাবেন কোচ ও সতীর্থরা। সেখানে উপস্থিত থাকবে ছেলে থিয়াগো, বান্ধবী আনতোনেল্লা, বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এর পরই পোর্তো আলেগ্রি যাওয়ার জন্য বিমান ধরবেন মেসিরা। এখানেই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে (২৫ জুন) নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লা আলবেকেলেস্তেরা।
লা ন্যাসিওনের সাংবাদিক হিসেবে সব সময়ই দৌড়াতে হচ্ছে মেসিদের পেছনে। ফুটবলার হিসেবে তাকে এর আগে অনেক দেখা হয়েছে। তবে বিশ্বকাপে এসে যেন মেসি আরও বদলে গেছেন। তার চোখে-মুখে স্পষ্ট প্রত্যয়ের চাপ। তবে বেলো হরাইজন্তের এস্টাডিও মিনেইরোতেই চোখে পড়েছে বাবার ১০ নম্বর জার্সিটি পরেই মা আনতোনেল্লা রোকুজ্জোর কোলে চড়ে খেলা দেখতে এসেছিল ছেলে থিয়াগো। অবিশ্বাস্য গোলটি করার পর ছেলেকেই সেটি উৎসর্গ করেছিলেন মেসি। খেলা শেষে সবাই যখন ড্রেসিংরুমে গিয়ে জয় উদযাপনে ব্যস্ত, তখন সেখানে ছেলেকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন আনতোনেল্লা রোকুজ্জোও। মেসি তখন ছেলেকে কোলে তুলে নিলেন এবং তাকে নিয়েই সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপন করলেন। শুধু মেসিই নন, আগুয়েরো, হিগুয়াইনদেরও দেখা গেছে পরিবারের লোকজন নিয়ে উৎসবে মাততে। তবে সবার কেন্দ্রেই ছিলেন মেসি।
হোটেলে ফিরে যাওয়ার পরও মেসিদের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের লোকজন। যদিও সেখানে স্ত্রী কিংবা বান্ধবী এবং সন্তানদের অবস্থান করাটা নিষিদ্ধ। তবে হোটেলে স্বজনদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো কিংবা সেখানে বান্ধবী-সন্তানদের যাওয়ায় কোনো বাধা নেই। এ কারণেই ছেলে থিয়াগোকে নিয়ে জন্মদিনের উৎসব পালন করতে পারবেন মেসি। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচের দিনও থিয়াগোকে নিয়ে হোটেলে মেসির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আনতোনেল্লা। শুধু তাই নয়, মার্সেলো তিনেলি নামে এক ভক্তের সঙ্গেও দেখা করেছেন মেসি।
এস্টাডিও মিনেইরোর ক্লাব অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর দেয়ালে একটি পোস্টার সাঁটানো। যেখানে লেখা, 'এটা এমন একটি গ্রাম, যেখানে শুধুই আনন্দ আর উৎসব।' সোশ্যাল নেটওয়ার্কের স্পাই ক্যামেরাগুলোও পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের। অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ১৮ নম্বর রুমটিতে অবস্থান করেছিলেন মেসি ও আগুয়েরো। সেখানকার বাথরুমের দরজায় লেখা একটি বক্তব্য এখন শোভা পাচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। থিয়াগোকে পাশে রেখে ছবি তুলেছেন মেসি-আগুয়েরোরা। তার পাশে মেসি লিখেছেন, 'তোমাকে আমি কতটা মিস করি, মাই লাভ!' টুইটারে আগুয়েরোর এক ভক্ত ছবিটা তুলে দিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের প্রস্তাব করেছে, এভাবে সেলফি ফটো তুলে সামাজিক ওয়েবসাইটে পোস্ট করার জন্য।
লেখক :ফার্নান্দো প্যাসিনি। আর্জেন্টাইন দৈনিক লা ন্যাসিওনের ক্রীড়া সাংবাদিক।