নিজামীর রায়

বড় কর্মসূচি দিচ্ছে না জামায়াত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪      

রাজীব আহাম্মদ

অন্য নেতাদের রায়ের আগে ও পরে সহিংস হলেও দলীয় প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় গতানুগতিক কর্মসূচিই দেবে জামায়াতে ইসলামী। অতীত অভিজ্ঞতা, দলের বেহাল অবস্থা এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের কারণে ফের সহিংস আন্দোলনের পথে যেতে চায় না জামায়াত। বিক্ষোভ কর্মসূচি ও 'নামকাওয়াস্তে' হরতালে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে 'প্রতিবাদ'।
নিকট অতীতে দলের সাবেক ও বর্তমান চার নেতার রায়ের আগের দিন
হরতাল ডেকে সহিংসতায় নেমেছিল দলটি। তবে এবার সে পথে যাচ্ছে না জামায়াত। এ কারণেই দলের আমিরের রায়ের দিনেও হরতাল নেই। আগের সন্ধ্যায়ও কোনো তৎপরতা ছিল না। রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই দলটির।
সোমবার জামায়াতের তিন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কঠিন বাস্তবতায় নমনীয় জামায়াত। দলটির হিসাব অনুযায়ী, জামায়াতের পাঁচ নেতার রায়কেন্দ্রিক সহিংসতায় দলের আড়াইশ' নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মামলায় জড়িয়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মী এখনও কারাগারে। আত্মগোপনে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতারাও। দলটির উদারপন্থি নেতারা মনে করেন, এবারও আগের মতো সহিংসতা হলে দলের নেতাকর্মীদের বিপদ বাড়বে। তাই ফের একই ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা।
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও বেহাল। গত সাড়ে তিন বছর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকানোর সহিংস আন্দোলনে দলের শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তি তছনছ হয়ে গেছে। তাই চাইলে এখনই ফের রাজপথে আন্দোলন সম্ভব নয়। তবে জামায়াত-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ হতে পারে।
তবে সীমিত আকারে প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা বলেন এই তিন নেতাই। তারা সমকালকে বলেন, জামায়াত তার সর্বোচ্চ শক্তি অনুযায়ী 'আন্দোলন' করবে। শিবিরের সাবেক সেক্রেটারিয়েট সদস্য ও বর্তমানে জামায়াতের দায়িত্বশীল এক নেতা সমকালকে বলেন, 'প্রতিবাদ না হলে কারাবন্দি নেতারা অনিরাপদ হয়ে পড়বেন। সরকার বাধা না পেলে মৃত্যুদণ্ডের নামে তাদের হত্যা করবে। সরকারকে এ ভাবনা থেকে সরাতে কর্মসূচি থাকবে।' সূত্রটি আরও জানায়, আগামী বুধবার হরতাল এবং আগামী সপ্তাহে বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। হরতাল ডাকা হলেও তা নিছক আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রথম বাংলাদেশ সফর। কাল আসছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি ভারতের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক আশা করছে জামায়াত। এ কারণেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম সফরের দিনেই হরতাল দিতে চায় না দলটি। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর গত বছরের মার্চে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রবণ মুখার্জির সফরের সময় টানা দুই দিন হরতাল ডেকেছিল জামায়াত। এ হরতালের অজুহাত দেখিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেখা করেননি ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে।