ফের গিনেস বুকে মাগুরার হালিম

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

অলোক বোস, মাগুরা

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়ে আবারও বাংলাদেশের মানচিত্র বিশ্ব দরবারে পেঁৗছে দিলেন মাগুরার আবদুল হালিম। মাথায় ফুটবল রেখে স্কেটিং করে ২৭.৬৬ সেকেন্ডে ১০০ মিটার অতিক্রম করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সনদপত্র দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। তিনি ইতিমধ্যে হাতেও পেয়েছেন ওই সনদ।
মাগুরার শালিখা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের সানাউল্লাহ পাটোয়ারীর ছেলে আবদুল হালিম। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হালিম গিনেস কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তৃতীয় বিশ্ব রেকর্ডের জন্য অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমকালকে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মাথায় বল নিয়ে স্কেটিং করে ১০০ মিটার অতিক্রম করেন তিনি। এ জন্য সময় নেন ২৭.৬৬ সেকেন্ড। এই প্রচেষ্টার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে চলতি বছরের ২৩ মার্চ তাকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি গিনেসের সনদ হাতে এসে পেঁৗছেছে। ২০১১ সালের ২২
অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্র্যাকে মাথায় বল নিয়ে টানা ১৫.২ কিলোমিটার হেঁটে প্রথম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েন হালিম। এ সময় তিনি পেছনে ফেলেছিলেন ১১.১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে বিশ্ব রেকর্ড গড়া মালয়েশিয়ার ই মিং লুকে। তবে মাথায় বল নিয়ে এত কম সময়ে স্কেটিংয়ের এ রেকর্ড প্রথমবারের মতো তিনিই করেছেন দাবি হালিমের।
তৃতীয় রেকর্ড গড়তে গিনেস কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়েছেন উল্লেখ করে হালিম জানান, বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আগে বিভিন্ন জেলায় ফুটবলের নানা কলাকৌশল দেখিয়ে সংসার চালাতেন। পাশাপাশি রেকর্ড গড়ার জন্য অনুশীলনও করতেন। কিন্তু ২০১১ সালে বড় ছেলের শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ার পর ধারদেনা করে ২০১২ সালে ভারতে নিয়ে তার অস্ত্রোপচার করানো হয়। দুই বছরের মধ্যে আরও দু'বার ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা থাকলেও টাকার অভাবে সম্ভব হয়নি। উপরন্তু সংসার চালাতে ও গিনেস রেকর্ডসের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দেনা ঘাড়ে চেপেছে। এ অবস্থায় নতুন রেকর্ডের জন্য অনুশীলন করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
হালিম বলেন, দেশবাসীর দোয়ায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। আরও নতুন-নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই। দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহায়তা প্রয়োজন।