পাবনায় আশ্রমের সেবক হত্যায় মামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

পাবনা অফিস ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

পাবনার হেমায়েতপুরে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে পাবনা সদর থানায় আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক যুগল কিশোর
ঘোষ অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলাটি করেন। তবে এ ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে সেবক হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার পাবনায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। পাবনা জেলা বিএনপি হত্যার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
শুক্রবার সকালে পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আরুয়া কংশু গ্রামের মৃত রসিক লাল পাণ্ডের ছেলে। নিত্যরঞ্জন ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমে ৪০ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বার্তা দিয়েছে বলে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির গতকাল সমকালকে বলেন, 'দেশকে অস্থিতিশীল ও মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই সেবককে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। তবে উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি হয়নি।' জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই অভিযান চলছে।'
এদিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়ূয়া কংশুর গ্রামের বাড়িতে নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে সৎসঙ্গের ধর্মীয় আচার মেনে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়। এ সময় পাবনা সৎসঙ্গের কর্মী অনীশ চন্দ্র ঢালী, লাইব্রেরিয়ান ঋতি্বক হৃদ্ধিমান সাহা, পাবনা সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে পাবনা থেকে পুলিশ পাহারায় নিত্যরঞ্জন পাণ্ডের মরদেহ কংশুর গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ বাড়িতে পেঁৗছার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্নায় বাড়ির পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।