বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতা করতে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (নিউইয়র্ক ফেড)। ওই চিঠিতে উদ্ধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ফলে অর্থ উদ্ধারে ঢাকার প্রচেষ্টা আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা আগামী সপ্তাহে ম্যানিলা যাচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।
ফেডের জেনারেল কাউন্সেল টমাস ব্যাক্সটার গত মাসের ২৩ তারিখে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জেনারেল কাউন্সেল এলমোর ও কাপুলেকে চিঠিটি দেন। এতে অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতার পাশাপাশি ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করে বলেন, অর্থ স্থানান্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রিজাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল; অথচ তাদের কয়েকজন কর্মকর্তার হাত দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থ সরানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে
নিউইয়র্ক ফেড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়। এর মধ্যে চারটি বার্তার মাধ্যমে ফিলিপাইনের ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। আর একটি বার্তার মাধ্যমে শ্রীলংকার একটি 'ভুয়া' এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। রিজাল ব্যাংকে যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ পরে দেশটির জুয়ার আসরে চলে যায়। এর মধ্যে দেড় কোটি ডলার এক ক্যাসিনো মালিক সরকারের হাতে ফেরত দিয়েছেন। সেই অর্থ ইতিমধ্যে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
এদিকে চুরির ঘটনা তদন্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ার আইর একটি প্রতিবেদনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নিউইয়র্ক ফেডকে দিতে রাজি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক ফেড কয়েক সপ্তাহ ধরে চেয়ে আসছিল বলে রয়টার্স উল্লেখ করেছে। মার্চে ফায়ার আইর দেওয়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে রিজার্ভ চুরির জন্য তৃতীয় একটি পক্ষকে দায়ী করা হয়েছিল।
ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া চিঠি এবং ফায়ার আইর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের কেউ মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ?শুভঙ্কর সাহাও বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্তাধীন কোনো বিষয় নিয়ে তারা মন্তব্য করবে না। তবে রিজাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিজার্ভ চুরির টাকা উদ্ধারে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে আগামী মাসের ১৫ থকে ১৯ তারিখের মধ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও নিউইয়র্ক ফেডের মধ্যে একটি বৈঠক হবে। টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়; তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে। নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে চুক্তির বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশ ব্যাংক মেনে চলেছে কি না_ সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর গত মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ চুরির তদন্ত কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। ফলে টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ওই দেশের সরকার রিজাল ব্যাংকের দায়ী কর্মকর্তাদের আটক করে টাকা উদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। অবশ্য রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সিজার ভিরাতা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত যারা অর্থ ছাড়ের ভুয়া বার্তা পাঠিয়েছিল, তাদের খুঁজে বের করা।

মন্তব্য করুন