সিইপিজেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় শ্রমজীবী মানুষকে। এ হাসপাতালের ছাদে উঠলেই মন জুড়িয়ে যায়। ছাদে শুধুই সবুজের সমারোহ। এক হাজার ৮০০ বর্গফুটের ছাদে সারি সারি গাছ। কাঠবাদাম, জাম, সফেদাসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ছাড়াও আছে অনেক বনজ গাছের চারা। আর বাগানে শোভা ছড়াচ্ছে রাধাচূড়া, করবী, রঙ্গনসহ নানা জাতের ফুল। ছাদে এমন বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের কর্মচারী মানিক চন্দ্র দাশ। এ কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। এবার বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আজ শনিবার তিনি পুরস্কার নেবেন।
মানিক চন্দ্র দাশ চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (সিইপিজেড) হাসপাতালের অফিস সহকারী। নগরীর দক্ষিণ হালিশহরে এই হাসপাতাল। সেখান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে তার বাসা। তবে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বাগান নিয়েই। ১৯৯৪ সালে হাসপাতালের ছাদে বাগান করার কাজ শুরু করেন মানিক। বেতনের টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা জমিয়ে গাছের চারা ও টব সংগ্রহ করে বাগান শুরু করেন। এখন সেই বাগান ফুলে-ফলে ভরে গেছে। বিভিন্ন সময় হাসপাতালে সিইপিজেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অনেক বিদেশি অতিথি পরিদর্শনে আসেন। তারা মানিকের হাতে গড়া বাগান দেখে মুগ্ধ হন, প্রশংসা
করেন। মানিকের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।
মানিক চন্দ্র দাশ সমকালকে বলেন, 'আমি কৃষকের ছেলে। তাই ছোটকাল থেকে সবুজ আমাকে আকর্ষণ করে। ১৯৮৯ সালে সিইপিজেড হাসপাতালে যোগদান করলেও বাগান করার সাধ থেকে যায়। নিজের কোনো জায়গা না থাকায় হাসপাতালের ছাদে বাগান করা শুরু করি। কর্তৃপক্ষ আমার উৎসাহ দেখে বাগান করার জন্য অর্থ দেয়। বাগানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০০ গাছ।'
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাগ বাদাম, আম, খেজুর, কামরাঙা, ডালিম, জলপাই, তেঁতুল, কদবেলসহ অনেক জাতের ফলদ গাছের চারা আছে এতে। বনজ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে হিজল, তমাল, বকুল, বট ইত্যাদি। ঔষধি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে চন্দন, রক্তচন্দন, বাসক ও নিম। ভেষজ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে মেহেদি, আমলকী, হরীতকী, বহেরা গাছের চারা।
বাগানে রয়েছে দেশে বিলুপ্তপ্রায় অশোক ও মহুয়া প্রজাতির ফুল। বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। রয়েছে মধুমালতী, গাঁদা, গোলাপ, চায়না ঘাস ইত্যাদি। বনসাই রয়েছে সাইকাস, পাইকাস, ড্রাগন ফলগাছের।
প্রতিদিন অফিস ছুটির পর এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে বাগান পরিচর্যা করতে আসেন মানিক চন্দ্র। হাসপাতালের কর্মী ও ডাক্তারদের অনেকে অফিস ছুটির পর পরিবার নিয়ে আসেন এ বাগানে। এই বাগান মন জুড়িয়ে দেয় রোগী ও তাদের স্বজনসহ সবার। হাসপাতালের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, মানিক চন্দ্র অনেক পরিশ্রম করে এ বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে তিনি মাঝেমধ্যে পরিবার নিয়ে আসেন।
১৯৯৪ সালে দেড় হাজার টাকায় ১০০টি চারা নিয়ে বাগান শুরু করেন মানিক চন্দ্র। টবের জন্য টাকা বেশি ব্যয় হওয়ায় টব বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা দেবাশীষ দত্ত বলেন, 'মানিক চন্দ্র এর আগেও দুই বার পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন। এবার তিনি ছাদে বাগান সৃজন বিভাগে দ্বিতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন।'
হাসপাতালের ডাক্তার আবু তছলিম বলেন, 'মানিক চন্দ্রের বাগান করার আগ্রহ দেখে আমরাও উৎসাহ দিই।'


মন্তব্য করুন