সিনেমা দেখতে বসেছেন। টান টান উত্তেজনা কিংবা মারদাঙ্গা সব অ্যাকশন দৃশ্য, চোখ পর্দা থেকে সরছেই না! কিন্তু কতক্ষণ। বড়জোড় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। কোনো কোনো চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে তিন ঘণ্টা। এর মধ্যেই মিলবে অবসর বিনোদনের খোরাক। কিন্তু কোনো চলচ্চিত্র যদি হয় ৭২০ ঘণ্টার অর্থাৎ ত্রিশ দিনের; তাহলে কী করবেন? ভাবছেন আর অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ারই কথা। মনে করছেন, অতবড় সিনেমা দেখার কী দরকার? দুই থেকে তিন মিনিটের ট্রেইলার বা ঘটনা সংক্ষেপ দেখে নিলেই তো হয়। সে আশাও গুড়েবালি! ৩০ দিনের সিনেমার তিন মিনিটের ট্রেইলার_ তা কি হতে পারে! তাই ঘটনা সংক্ষেপে দেখতে হলেও আপনার পর্দায় চোখ রাখতে হবে টানা ৪৩৯ মিনিট বা ৭ ঘণ্টা ৩১ মিনিট!
সম্প্রতি এমনই একটি ট্রেইলার প্রকাশ করেছে দীর্ঘ ছবির পরিচালক সুইডিশ নাগরিক অ্যানড্রেস ওয়েবার্গ। তার ছবির নাম 'অ্যামবিয়ানস'। এটি তার সিনেমার দ্বিতীয় ট্রেইলার। গত বছর তিনি ৭২ মিনিটের প্রথম ট্রেইলার প্রকাশ করেছিলেন। পরিচালক জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে তিনি এবারের চেয়েও বড় আরেকটি ট্রেইলার বাজারে ছাড়বেন। সেটা হবে ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের।
এখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কী থাকছে অ্যানড্রেস ওয়েবার্গের

পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র 'অ্যামবিয়ানস'-এ। এত দীর্ঘ সময়ই বা কেন? বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁেট দেখা যায়, ৩০ দিনের এই চলচ্চিত্রে কোনো বিরতি ছাড়াই দক্ষিণ সুইডেনের একটি সমুদ্রসৈকতে দু'জন পথশিল্পীকে দেখানো হবে। গল্পে সময় ও কালের মিশেল নিয়ে একটি পরাবাস্তব স্বপ্ন জগতে যাত্রার কথা বলা হয়েছে। ২৪০ দিন ধরে ছবিটির শুটিং করা হচ্ছে। সম্পাদনাসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে আরও ৬০০ দিন। ছবিটি মুক্তি পাবে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর।
পরীক্ষামূলক হিসেবে 'অ্যামবিয়ানস'কে পৃথিবীর দীর্ঘতম চলচ্চিত্র বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর অবস্থান দ্বিতীয়। কারণ ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া 'লজিস্টিকস' সিনেমাটিই এ তালিকার শীর্ষে। সুইডিশ শিল্পী ডেনিয়েল এন্ডারসন ও এরিকা ম্যাগনুসন নির্মিত চলচ্চিত্রটির ব্যাপ্তি ছিল ৮৫৭ ঘণ্টা বা ৩৭ দিন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ২৪০ ঘণ্টার বা ১০ দিনের ছবি 'মর্ডান টাইমস ফরএভার'। এ ছাড়া ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ব্যাপ্তির দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ছবি 'রিজ্যান' (দ্যা জার্নি)। পিটার ওয়াটকিন্স পরিচালিত এ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৭ সালে। এর ব্যাপ্তি ছিল ১৪ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট। এ তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ফ্রান্স ভাষার ছবি 'আউট-১' (১২ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট) ও 'হাউ ইউকং মুভড দ্য মাউন্টেন' (১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট)। আর মূলধারার চলচ্চিত্রে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া হাঙ্গেরির ছবি 'সাটানটাঙ্গো' (৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালির ছবি 'দি বেস্ট অব ইয়ুথ' (৬ ঘণ্টা ২৩ মিনিট) এবং ফ্রান্সের ছবি 'লা কমিউনি' (৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট)। সূত্র :ইন্ডিপেনডেন্ট, উইকিপিডিয়া ও লংগেস্টফিল্ম ডট কম।


মন্তব্য করুন