আ'লীগের সঙ্গে মতবিনিময়

বসতভিটা ফেরতসহ সাঁওতালদের ১০ দফা

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা পুরনো বসতভিটা ফেরত প্রদানসহ ১০ দফা আশু করণীয় দিয়েছেন আওয়ামী লীগকে। তারা বলেছেন, সাঁওতালরা তাদের পল্লীর বাইরে থাকার কথা ভাবছেন না। যেখানে সাঁওতালদের বসতবাড়ি ও জমি-ঘর ছিল_ ঠিক সেই জায়গাটিই ফেরত চান তারা।
গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন সাঁওতাল নেতারা। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম
ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সাত নেতা এই বৈঠকে যোগ দেন। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
সাঁওতালদের পক্ষে দেওয়া দুই সংগঠনের দশ দফা করণীয়র মধ্যে আরও রয়েছে_ ওই ঘটনায় গ্রেফতার সাঁওতালদের বিরুদ্ধে দায়ের সব মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধ; নষ্ট করা ক্ষেতের ফসল ও পুকুরের মাছের ক্ষতিপূরণ; হতাহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন; পুড়ে যাওয়া বাসস্থান, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দেওয়া; ফার্ম এলাকার অধিবাসীদের বসতঘেঁষা কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়া; হামলার পরিকল্পনাকারী, ইন্ধনদাতা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা; পক্ষপাতদুষ্ট গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহার, শাস্তি প্রদান; সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে অগি্নসংযোগকারী পুলিশ ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমি অধিগ্রহণের শর্ত ভঙ্গ করে ইজারা দেওয়ায় রংপুর চিনিকল মিল কর্তৃপক্ষের অবৈধ পদক্ষেপ ও দুর্নীতির তদন্ত করা।
বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন সাংবাদিকদের জানান, সরকার উচ্ছেদের শিকার সাঁওতালদের গুচ্ছগ্রামে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিলেও তারা গুচ্ছগ্রামে থাকতে অভ্যস্ত নন। যে জমি থেকে সাঁওতাল আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে সেখানে তাদের পূর্বপুরুষদের সমাধিসৌধ, উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এর সমাধান করার আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে তার কথায় তখনই স্বস্তি পাব, যখন দেখব ওই ঘটনায় গ্রেফতার নিরীহ সাঁওতালদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত আদিবাসী সাঁওতালপল্লীর মানুষ শঙ্কিত রয়েছেন। সেখানে ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। দুই দিন আগেও সন্ত্রাসী বাহিনীসহ পুলিশ আদিবাসী গ্রামে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
বৈঠকে সাঁওতাল নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, গণেশ মুর্মু, প্রভাত টুডু প্রমুখ।