আটক ধর্ষকদের ছেড়ে দিল ইউপি সদস্য

প্রকাশ: ২৬ মে ২০১৮

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বাবার সঙ্গে আত্মীয়র বাড়িতে পূজা দেখতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী। জনতা তিন ধর্ষককে হাতেনাতে ধরলেও সালিশে মীমাংসার কথা বলে পুলিশে না দিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কলতা গ্রামে গত মঙ্গলবার ঘটে এ ঘটনা। পরে বৃহস্পতিবার তিনজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা হয়েছে। তবে এখনও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর ভাই জানান, তার বোন মানিকগঞ্জ শহরের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মঙ্গলবার বাবার সঙ্গে ঘিওর উপজেলার কলতা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পূজা অনুষ্ঠানে যায়। রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে তার বোনেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় একই গ্রামের জসিম মিয়ার ছেলে জনি (২০)। এর পর তাকে পাশের ফাঁকা মাঠে নিয়ে জনি ও তার দুই সহযোগী একই এলাকার বাবলু মিয়ার ছেলে রুবেল (২৬) ও ইয়াদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫) ধর্ষণ করে। স্থানীয় জনতা তিনজনকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও পরে তাদের ছেড়ে দেন নালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান।

ওই ছাত্রীর ভাই আরও অভিযোগ করেন, ওই ইউপি সদস্যসহ গ্রামের প্রভাবশালী একটি মহল মামলা না করতে তাদের চাপ দেয়। এক লাখ টাকা নিয়ে ঘটনা আপস-মীমাংসার প্রস্তাবও দেয় তারা। কিন্তু সে প্রস্তাবে তারা রাজি হননি। বৃহস্পতিবার ঘিওর থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান আপসের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ঘটনার পর এলাকার কয়েকজন হাতেনাতে তিন যুবককে ধরলেও তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।

ঘিওর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান ওসি।