ষড়যন্ত্রে বিএনপি ও এক-এগারোর কুশীলবরা -ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি ও এক-এগারোর কুশীলবরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দেশে যখন শান্তিময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন এক-এগারোর কুশীলবরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। আর এক-এগারোর সেই কুশীলবদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপি নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের জাল বোনা যায় কি-না, সেই গোপন চক্রান্ত করছে।

গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সরকার হটানোর চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিএনপি ঢাকা অচলের কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা অচল করার মাধ্যমে তারা দেশ অচল করতে চেয়েছে। কিন্তু তাদের অতীতের সব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। এই অপপ্রয়াসও ভেস্তে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যত অপবাদ আসুক, যতই ষড়যন্ত্র হোক, কাজ করে ও দেশের উন্নয়ন করে তার জবাব দেবো। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে যতটা সম্ভব সহনশীল হবো। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। ক্ষমতার জন্য ষড়যন্ত্র করে দেশ ধ্বংসের রাজনীতি যারা করে, তাদের সঙ্গে কীভাবে একটি ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে? গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সবিনয়ে ড. কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাই- গুামী লীগের বিরুদ্ধে চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ দেওয়া হলো। আক্রান্ত হলো আওয়ামী লীগ, অথচ দেশ-বিদেশে সুপরিকল্পিতভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে আওয়ামী লীগকেই আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হলো।

রাজনৈতিক বিরোধী শক্তির উদ্দেশে তিনি বলেন, জানি- কোথায় কোন মিটিং হচ্ছে। দেশে হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে। প্রথম প্রহর, মধ্য প্রহর ও শেষ প্রহরে হচ্ছে; রাতের অন্ধকারে হচ্ছে। সরকার কিছু জানে না- তা ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। সবকিছুই জানি। কত ষড়যন্ত্র ও কত বৈঠক হয়েছে। ব্যবস্থা নিলে কারও জেলের বাইরে থাকার কথা ছিল না। কিন্তু ধৈর্য ধরছি।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি কূটনীতিকদের ব্রিফ করতে চায়, করুক। তারা তো এটা করেই যাচ্ছে। নালিশ করা তাদের অভ্যাস। দেশে যখন আন্দোলন হয়, তখন বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। তিনি বলেন, বিএনপি কানাডার আদালতে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে দেশ-বিদেশে যে কুখ্যাতি বিএনপি অর্জন করেছিল, সেই কলঙ্ক আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। এই ঘৃণ্য ও জঘন্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই। আর এসব সময় যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান, তারা সাংবাদিকদেরও টার্গেট করেন। সাংবাদিকদের টার্গেট করে ফায়দা লোটার চেষ্টা এ দেশে আরও অনেকবার হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেও এটা হয়। শিক্ষার্থী আন্দোলনে উস্কানিদাতা ও চিহ্নিতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আটঘাট বেঁধে তদন্ত হচ্ছে। যাতে জালে ধরা পড়ে আবার বেরিয়ে যেতে না পারে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের ওপর অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার তালিকা দিন। ছাত্রলীগের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেব। বিচারের মুখোমুখি হতে আওয়ামী লীগের কোনো দ্বিধা নেই। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে কেউ রেহাই পায়নি, পাবেও না।

জাতিসংঘের বিবৃতির বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘকে আমরা জানিয়েছি- এটা অপপ্রচার। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি যে কোনো কারণে হোক, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকা থেকে এখন একটু দূরে। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ড. হাছান মাহমুদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।