বিবিসির বিশ্নেষণ

আগামী নির্বাচনে সাইবার যুদ্ধের আশঙ্কা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনেও ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম একটি বড় পল্গ্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহূত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়টি নিয়ে বেশ মনোযোগীও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম শনিবার যশোরে দলের নেতাকর্মীদের বলেছেন, আসছে নির্বাচনে সাইবার যুদ্ধ হবে। খবর বিবিসির।

এমন প্রেক্ষাপটে দলটির কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  বেশি সক্রিয় হতে পরামর্শ দিয়েছেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেছেন, তারা যদি মিথ্যা একটি লেখে, আপনারা দশটি জবাব লিখুন। আপনারা কেন পিছিয়ে থাকবেন। আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংঘাতিক লড়াই হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে গত বেশ কয়েক বছর যাবত। ক্ষমতাসীন দল মনে করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফেসবুকে অনেক সক্রিয় এবং সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। কিন্তু এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকে ততটা সোচ্চার নয় বলেই দলের শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা রয়েছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'গুজব ছড়ানো প্রতিহত' করা। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনের জন্য 'সরকারের উন্নয়ন' প্রচার করা।

বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে 'সাইবার যুদ্ধ' প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন, তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। 'বাঁশের কেলল্গা' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত। 'বাঁশের কেলল্গা' ফেসবুক পেজটিকে জামায়াতে ইসলামীর মদদপুষ্ট বলে মনে করা হয়। এরপর থেকে ফেসবুকে নানা ধরনের গ্রুপ তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল মনে করেন, আগামী নির্বাচনে অনলাইন, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিসরে অনলাইনে প্রচারণা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার দুটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক নজরুল। তার মতে প্রথম কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমের একাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আরেকটি অংশ সরকারের বিভিন্ন কালাকানুনের ভয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে পারছে না।

এ দুটি পরিস্থিতির কারণে যে শূন্যতা দেখা দিয়েছে, সেটি পূরণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অধ্যাপক নজরুল মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক বিএম মইনুল হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা জোরেশোরে শুরু করেছেন। কোন পোস্টে কয়টি লাইক পড়ছে, কতগুলো শেয়ার হচ্ছে- এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে একটি ইমপ্যাক্ট তৈরি হয়। তিনি বলেন, ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যার সাহায্যে কম সময়ে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। মইনুল হোসেন বলেন, সাইবার যুদ্ধ বলতে তো আর প্রথাগত যুদ্ধ বোঝায় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার করা এবং প্রতিপক্ষের ভুল চিহ্নিত করাটাই হবে এর উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুল ব্যবহার যেমন লক্ষ্য করা গেছে, আর তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোলাখুলি বিরক্তি প্রকাশ এবং নেতিবাচক মন্তব্যও করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক নিয়ে সরকার বাড়তি সতর্ক হয়ে উঠেছে।

মাসখানেক আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হলে ফেসবুকসহ যে কোনো কিছু বন্ধ করতে হবে। ফেসবুকে অনেক গ্রুপ এবং পেজ আছে, যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাে র সমর্থন করা কিংবা প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা হয়। নিজেদের কর্মকাে র প্রচারণার সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণার বিষয়ও লক্ষণীয়।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলো ফেসবুক পেজের পাশাপাশি টুইটার এবং ইউটিউবেও সক্রিয়। এ ছাড়া তাদের কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকে অসংখ্য পেজ খুলেছেন যেগুলো দলের প্রচার-প্রচারণার কাজ করছে।

আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা মনে করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ততটা সক্রিয় ছিল না। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সেই ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন।

হোয়াটসঅ্যাপে একই বার্তা পাঁচবারের বেশি পাঠানো যাবে না

হোয়াটসঅ্যাপে একই বার্তা পাঁচবারের বেশি পাঠানো যাবে না

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং সার্ভিস ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানো কিছু দেশের ...

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ১৫টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একজনকে ...

বদির তিন ভাই 'সেফহোমে'

বদির তিন ভাই 'সেফহোমে'

স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক ইয়াবাকারবারিরা এখন কক্সবাজারে পুলিশ হেফাজতে এক ধরনের ...

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি ...

পেশা পাল্টাচ্ছে পাঁচুপুরের কামার কুমার জেলেরা

পেশা পাল্টাচ্ছে পাঁচুপুরের কামার কুমার জেলেরা

কামারপাড়া। ভেবেছিলাম পাড়ায় ঢুকতেই হাঁপর আর লোহা পেটানোর শব্দ শোনা ...

স্বেচ্ছাশ্রমে ১০ কিলোমিটার রাস্তা

স্বেচ্ছাশ্রমে ১০ কিলোমিটার রাস্তা

'দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ'- এ প্রবাদটিকে ...

এমএম কলেজে নির্বাচনে বাধা গঠনতন্ত্র

এমএম কলেজে নির্বাচনে বাধা গঠনতন্ত্র

গঠনতন্ত্রের 'সামান্য বাধা'য় দেয়াল উঠেছে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ ...

ক্রমেই বড় হচ্ছে একুশে বইমেলা

ক্রমেই বড় হচ্ছে একুশে বইমেলা

ক্রমে বিকশিত হচ্ছে প্রকাশনা শিল্প। সেইসঙ্গে প্রকাশকের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিবছর। ...