মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখেই প্রার্থী মনোনয়ন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখেই প্রার্থী মনোনয়ন

ফাইল ছবি

শুধু গোয়েন্দা প্রতিবেদন নয়, অন্যান্য সূত্র থেকেও সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বা হচ্ছে। কারও মুখ দেখে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, এমন কেউ মনোনয়ন পাবেন না। গতকাল সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জানান, অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভাভুক্ত আওয়ামী লীগের সদস্যদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশনা দেন। তিনি  বলেন, আগামী  নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন হবে বড় ফ্যাক্টর। কারণ প্রার্থী ভালো না হলে জনগণ তাকে ভোট দেবে না। আর ভোট না পেলে প্রার্থী জয়ী হতে পারবেন না। তাই গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্নেষণ করে বাছাই করা উপযুক্ত প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সূত্র জানাচ্ছে, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের প্রভাব খুব বেশি থাকবে না। আর প্রভাব পড়লেও বড় জোর ২০-৩০ শতাংশ প্রার্থী দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ অর্থাৎ জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতার কারণে নির্বাচনে জয়ী হবেন অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ প্রার্থী। এসব বিষয় বিবেচনা করে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ইমেজকে গুরুত্ব দেবে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাও বিশেষ বিবেচনা করা হবে।

এ সময় জোটভুক্ত অন্য মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত রোববার সংসদ অধিবেশন চলার সময় নির্বাচনের প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আজ (সোমবার) সংসদ অধিবেশনের এক ফাঁকে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গেও নির্বাচন-সংক্রান্ত বৈঠক হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য সমকালকে বলেন, বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে, এ ধারণা মাথায় রেখেই প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। গত পাঁচ বছরে যেসব সংসদ সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী আভাসও দিয়েছেন যে, এমন আবেদনকারীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এছাড়াও মন্ত্রিসভায় 'মোটরসাইকেল শিল্প নীতিমালা-২০১৮'-এর খসড়া ও 'শিশু একাডেমি আইন ২০১৮'-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। কার্যতালিকায় 'প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন ২০১৮'-এর খসড়া উত্থাপন করা হলেও তা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফেরত দেওয়া হয়।

মোটরসাইকেল শিল্পে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেট :২০২৭ সালের মধ্যে দেশে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে 'মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৮'-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্পের প্রসার ঘটাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালায় মোটরসাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান পাঁচ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ১৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দেশে মোটরসাইকেল তৈরি করে তা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হবে। এই শিল্প থেকে জিডিপিতে অবদান শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, ২০২৭ সালের মধ্যে তা দুই দশমিক পাঁচ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন পরীক্ষায় মন্ত্রিসভা কমিটি :মন্ত্রিসভার কার্যতালিকায় 'বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৮'-এর খসড়া থাকলেও গতকাল তা সভায় উত্থাপন করা হয়নি। এটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চারজন প্রকৌশলী মন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমিটি করেছে মন্ত্রিসভা। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। গতকাল সোমবার সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রিসভায় নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।