মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় পুলিশ কর্মকর্তার

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চরামদ্দি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল গাজীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন- চরামদ্দি ইউনিয়নের সটিখোলা গ্রামের মোহন হাওলাদার ও রনি হাওলাদার। তারা মামাতো ফুফাতো ভাই। মোহন টাইলস মিস্ত্রি ও রনি মাইক্রোবাস চালক।

মোহন ও রনি অভিযোগ করেন, গত সোমবার তারা বরিশাল নগরীর বিআরটিএ অফিসে কাজ শেষে সকাল ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চরামদ্দির বোর্ড স্কুল এলাকায় এএসআই সাইফুল গাজী তাদের থামিয়ে দেহ তল্লাশি করেন। তবে তাদের কাছে অবৈধ কিছুই ছিল না।

মোহন বলেন, তল্লাশির সময় পুলিশ তার গায়ের জ্যাকেট খুলে মোটরসাইকেলের ওপর রাখে। কিছুক্ষণ পর একজন কনস্টেবল জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে একটি গাঁজার পুঁটলি বের করে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তারা প্রতিবাদ করলে এএসআই সাইফুল গাজী তাকে চড়থাপ্পড়ের পাশাপাশি সঙ্গে থাকা হকিস্টিক দিয়ে পেটান। পরে জোর করে তাদের স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের দু'জনকে আটক করে পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়ার পর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। রনির ভাই মালদ্বীপ প্রবাসী কাওছার হাওলাদার বলেন, তিনি ক্যাম্পে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে দুইজনকে বাকেরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। মোহনের ভাই সুমন হাওলাদার বলেন, তিনি থানায় গিয়ে এএসআই সাইফুলের উপস্থিতিতে এক কনস্টেবলকে আরও ২০ হাজার টাকা দেন।

তারা আরও জানান, টাকা দেওয়ার পর রনি ও মোহনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির তাদের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। সেই টাকা শোধ করে তারা মুক্ত হন।

তবে এএসআই সাইফুল গাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'এলাকাটি আগে মাদকের আস্তানা ছিল। আমি চরামদ্দি ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছে। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।' মামলা না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি শুধু আসামি ধরতে পারেন। মামলা দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি থানার ওসির আওতায় রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, এএসআই সাইফুল দুই যুবককে মাদক বহনের অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। তবে এই যুবকরা থানায় কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব অভিযোগ করেনি। তারা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।