জাবিতে পাখিমেলা

কূজনে মুখর ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৯      

আরিফুল নেহাল, জাবি

কূজনে মুখর ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী পাখি - সমকাল

এইখানে সরালি পাখি তো ওই খানে পচার্ড। কিছু দূরেই উড়ে বেড়াচ্ছে ছোট জিরিয়া, পাতারি, মানিকজোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, ফ্লাইফেচার ও গার্গেনি। তার পাশেই ভূরিভোজনে ব্যস্ত নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক, পাতারি হাঁস, জলকক্কুট, খয়রাসহ নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।

পাখির অভয়ারণ্যখ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গতকাল শুক্রবার এ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা। মহাসমারোহে অতিথি পাখি দেখার জন্য এদিন আয়োজন করা হয় 'পাখিমেলা-২০১৯'। 'পাখপাখালি দেশের রত্ন, আসুন সবাই মিলে করি যত্ন'- এ স্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী এ মেলার। জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড  লাইফ রেসকিউ সেন্টারের (ডব্লিউআরসি) যৌথ উদ্যোগে এটি ছিল মেলার ১৮তম আয়োজন।

শীতের এ সময়টাতে প্রতিবছরই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে জাবি। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। দেখা যায়, ঝাঁক বেঁধে উড়ছে পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেকে পাখির কিচিরমিচির। কিছু পাখি পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে, কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে খাবার। খুব কাছ থেকে এসব পাখি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পাখিমেলায় এসে বাচ্চারা নানা প্রজাতির পাখির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। এতে পাখির প্রতি মমত্ব এবং সংযোগ বাড়ছে। উপাচার্য তার ভাষণে ষাট এবং সত্তর দশকের ঢাকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময়ে ঢাকা সবুজ ছিল। অনেক জলাশয় ছিল। সেখানেও পাখি আসত। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙত। এখন সেই ঢাকা নেই। জলাশয় ভরাট, ইট, পাথর, কংক্রিটের নানাবিধ কাজের মধ্যদিয়ে মানুষ সবুজ প্রকৃতি ও পাখপাখালির ঢাকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। এখন সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সকালে পাখিমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট পাখিবিশারদ ড. ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, আইসিইউএন বাংলাদেশের প্রতিনিধি রাকিবুল আমিন, কথাসাহিত্যিক আখতার হুসেন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এটিএম আতিকুর রহমান।

মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। মেলার উদ্বোধনের আগে বিগবার্ড বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড, কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ও সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

মেলায় নতুন প্রজাতির পাখি শনাক্ত করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনজন পাখিপ্রেমী লাভ করেন 'বিগবার্ড অ্যাওয়ার্ড'। পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন- শফিকুর রহমান শুভ্র, মো. কায়েস ও তৌকির হাসান হৃদয়। কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাহুল এম ইউসুফ, আদিব মুমিন আরিফ ও আব্দুল্লাহ আল ওয়াহিদ। এছাড়া সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মুনতাছির আকাশ। উপাচার্য ফারজানা ইসলাম পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

মেলায় অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল- আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা ও পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। সবশেষে ছিল বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফা ফিরোজ বলেন, জাবি ক্যাম্পাসের উপযোগী পরিবেশ আর বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর কারণে এখানে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। মেলার আহ্বায়ক কামরুল হাসান বলেন, ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পাখিমেলা হয়ে আসছে।