নাজমুন নাহার এবার আফ্রিকার ১৫ দেশে

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

নাজমুন নাহার এবার আফ্রিকার ১৫ দেশে

আফ্রিকার দেশে আফ্রিকান বেশে বাংলাদেশি পর্যটক নাজমুন নাহার। ১২৫টি দেশ ভ্রমণ শেষ করেছেন তিনি- বিবিসি

গত তিন মাসে পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশি পর্যটক নাজমুন নাহার। সাহারা মরুভূমির আশপাশের এই দেশগুলো নিয়ে তার ভ্রমণ করা মোট দেশের সংখ্যা দাঁড়াল ১২৫-এ। যেখানেই গেছেন তিনি, সঙ্গে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের পতাকা। কোনো বাংলাদেশি নারীর বিশ্বভ্রমণে নিঃসন্দেহে এটা একটা রেকর্ড। তিনি জানান, বিশ্বের সব দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছে আছে তার। খবর বিবিসি বাংলার।

নাজমুন নাহার যেখানেই গেছেন সেখানকার মানুষের মতো রূপ নিতে চেয়েছেন, যাতে স্থানীয় লোকজন তাকে আপন করে নেয়। এই দফায় তিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছেন সড়কপথে। শুরু করেছিলেন মৌরিতানিয়া থেকে আর শেষ করেছেন পশ্চিম আফ্রিকার শেষের দিকের দেশ নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে।

এবার তিনি যান সেনেগাল, মালি, গাম্বিয়া, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিয়ন, লাইবেরিয়া, টোগো, ঘানা, আইভরি কোস্ট, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, বেনিন ও নাইজেরিয়া। কখনও বাইকে ভেঙে ভেঙে, কখনও ট্যাক্সি বা গাড়িতে, আবার কখনও মিনিবাসে এবং হেঁটে তিনি এসব দেশের সীমান্ত পার হয়েছেন।

তিনি জানান, রাস্তাগুলো একেবারে ভাঙাচোরা। দু'পাশে গভীর অরণ্য। রাস্তায় বড় বড় গর্ত। কখনও কখনও তাকে বাইক থেকে নেমে হেঁটে কিছুটা পথ যেতে হতো। হাঁটুপানি ডিঙিয়ে এসব গর্ত পার হয়ে যেতেন তিনি। তারপর আবার চড়ে বসতেন বাইকের পেছনে।

নাজমুন নাহার বলেন, এবার যেসব দেশে গিয়েছিলেন সেগুলো সাহারা মরুভূমির নিচের দিকে। ফলে তিনি বেশ কয়েকবারই ধূলিঝড়ের মুখে পড়েছিলেন। সব জায়গায় ঠিকমতো খাওয়ার পানিও পাওয়া যায়নি। কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলেন জঙ্গলের ভেতরে। কয়েক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করে আবার পথ খুঁজে পেয়েছেন। কোথাও দেখা যেত দশ গ্রামের মানুষ মিলে একটা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছে। বহু দূর থেকে এসে মানুষ প্রতিদিন ভোরবেলায় কলসি ভরে সেখান থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, আফ্রিকার এসব দেশের গ্রাম-গঞ্জের মানুষ বাংলাদেশকে চিনতে পারেনি। তবে প্রায় সব প্রধান শহরের লোকেরাই বাংলাদেশকে কমবেশি চেনে। এর একটি কারণ হচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশি সেনাদের ভূমিকা।

আফ্রিকার স্থানীয় আদিবাসী লোকজনের বাড়িতে থেকেছেন নাজমুন নাহার। মাটিতে ঘুমিয়েছেন, রাত কাটিয়েছেন জঙ্গলে। কখনও কখনও আদিবাসীদের সনাতন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়েও দিন কাটিয়েছেন তিনি।