দ্বিতীয় ধাপের তফসিল

১২৯ উপজেলায় ভোট ১৮ মার্চ

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

উপজেলা পরিষদে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, এই ধাপে ১৭টি জেলার ১২৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১৮ মার্চ।

এর আগে প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব উপজেলায় ভোট হবে ১০ মার্চ। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় পাঁচ ধাপে নির্বাচন করবে ইসি।

দ্বিতীয় ধাপে ১২৯ উপজেলায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাই হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

আইন অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদের তিনটি পদ- চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারও সুযোগ থাকছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রতিটি জেলার সদর উপজেলার সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ায় প্রথম ধাপের ৮৭ উপজেলার কোথাও ইভিএম থাকছে না বলে জানান ইসি সচিব।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গা, রানীশংকৈল। রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, পীরগাছা, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ। গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর, সাদুল্যাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও পলাশবাড়ী। দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর সদর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হাকিমপুর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, বিরল, পার্বতীপুর, খানসামা ও ঘোড়াঘাট। বগুড়া জেলার বগুড়া সদর, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকন্দি, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, কাহালু, গাবতলী ও সোনাতলা।

নওগাঁ জেলার নওগাঁ সদর, আত্রাই, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট, বদলগাছী, রানীনগর, মহাদেবপুর, পত্নীতলা ও মান্দা। পাবনা জেলার পাবনা সদর, আটঘরিয়া, বেড়া, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া ও সুজানগর।

আরও রয়েছে সিলেট জেলার সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার। মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর, বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল। গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর। ফরিদপুর জেলার ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী, চরভদ্রাসন, সদরপুর, সালথা, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ভোট হবে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, মিরসরাই, রাউজান ও হাটহাজারী। রাঙামাটি জেলার রাঙামাটি সদর, লংগদু, নানিয়ারচর, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বরকল, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি। বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, থানচি, লামা, রুমা ও নাইক্ষ্যংছড়ি। খাগড়াছড়ি জেলার খাগড়াছড়ি সদর, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড় ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা।

৩ ফেব্রুয়ারি ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৮৭টি উপজেলায় ভোট হবে ১০ মার্চ। এ ধাপে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১১ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১২ ফেব্রুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ও পঞ্চম ধাপে ১৮ জুন ভোট নেওয়া হবে। বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা প্রার্থী হতে চাইলে তাদের পদ ছাড়তে হবে।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অধিকাংশই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট হয়েছিল।