মায়ের সঙ্গে মুদি দোকানে গিয়েছিল শিশু শিমন। ফেরার পথে সে হঠাৎ মায়ের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড় দেয়। তখনই তাকে ধাক্কা দেয় একটি রিকশা। এতে আহত হয়ে কাঁদতে থাকে শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে এগিয়ে যান মা কলি আক্তার। আদরের সন্তানকে কোলে তুলে ছোটেন হাসপাতালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মুগদাপাড়ার মান্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মুগদাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। রিকশার ধাক্কাতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ শিশুটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, কীভাবে তার সন্তান আহত হয় তা তিনি দেখেননি। তবে তিনি ধারণা করছেন, রিকশার ধাক্কায়ই শিমন আহত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

শিমনের মা কলি আক্তার হাসপাতালে জানান, তার স্বামী আমির হোসেন পেশায় প্রাইভেটকার চালক। তারা মুগদাপাড়ার মান্ডা এলাকার শাহ আলমের গলির একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। গতকাল দুপুর ২টার দিকে সন্তানদের জন্য কলা কিনতে বাসার অদূরে প্রধান সড়কে যান তিনি। এ সময় চার বছরের শিমনসহ দুই সন্তান তার সঙ্গে ছিল। দোকান থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় ঘটে দুর্ঘটনা।

তিনি জানান, রিকশার ধাক্কায় আহত শিমনকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বাসায় এসে সে বমি করতে শুরু করে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিমনকে মৃত ঘোষণা করেন। শিমন চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সুতাশি এলাকায়।

এদিকে ছোট্ট শিশুটির এমন মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা-ভাইসহ স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে ঢামেক হাসপাতালের পরিবেশ। শিশুটির মা এ দুর্ঘটনার জন্য নিজেকেই দায়ী করছিলেন। তার মতে, তিনি আরেকটু সতর্ক থাকলে ছেলে হাত ছেড়ে দৌড় দিতে পারত না।

মুগদা থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনরা কোনো মামলা করতে রাজি হননি। তারা বলেছেন, কোন রিকশার ধাক্কায় শিশুটি মারা গেছে, সেটি তারা নিশ্চিত নন। এক্ষেত্রে কার বিরুদ্ধে মামলা করবেন? তা ছাড়া মামলা করতে গেলে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করাতে হবে। ফুলের মতো শিশুটির শরীরে আর কোনো কাটা-ছেঁড়া হোক এটি তারা চান না। এ কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে।




মন্তব্য করুন