সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে থামাতে বুলেট ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। খাসোগি দেশে না ফিরলে ও সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বন্ধ না করলে তাকে এভাবেই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানা যায়। এদিকে সৌদি আরবের কর্মকর্তারাই যে পরিকল্পিতভাবে খাসোগিকে হত্যা করেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগি হত্যাকাে র এক বছর আগে একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবরাজ সালমান। খাসোগি হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এবং বিদেশি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সঙ্গে যুবরাজের ওই কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বুলেট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বুলেট শব্দটি ব্যবহার করে যুবরাজ আক্ষরিক অর্থে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, নাকি খাসোগির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে যে কোনো ব্যবস্থা নিতে উপমা অর্থে বুলেট শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, গোয়েন্দারা তা বুঝতে চাইছেন।

গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংসভাবে খুন হন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে যুবরাজ মোহাম্মদ ও তার সহযোগী তুর্কি আলদাখিলের মধ্যে ওই কথোপকথন হয়। ওই সময় সৌদি কর্মকর্তারা সরকারের বিরুদ্ধে খাসোগির একের পর এক কলাম নিয়ে যুবরাজকে সতর্ক করে তথ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই মাসে ওয়াশিংটন পোস্টে খাসোগি কলাম লেখা শুরু করেন। সৌদির শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করছিলেন, কীভাবে খাসোগিকে প্রলোভন দেখিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে কর্মকর্তাদের বরাতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কথোপকথনে যুবরাজ বলেছিলেন, খাসোগি সৌদি আরবে ফিরতে প্রলুব্ধ হবেন না, তাকে জোর করে ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি কোনো পদ্ধতিই কাজ না করে, তাহলে একটি বুলেটই যথেষ্ট।

এদিকে সৌদি আরবের হাতেই খাসোগি হত্যার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ওই হত্যাকাে র পর তুরস্কের তদন্তের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার সব ধরনের চেষ্টাই সৌদি করেছে বলে জাতিসংঘের তদন্ত দল জানিয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল খাসোগি হত্যার তদন্তে ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক সফর করে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ক্যালামার বলেন, তদন্তের সময় যেসব তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে, খাসোগি একটি নিষ্ঠুর এবং পরিকল্পিত হত্যাকাে র শিকার। সৌদি কর্মকর্তারাই ওই ছক সাজিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন।



মন্তব্য করুন