কিশোরগঞ্জে যুবলীগ নেতা ইউসুফ মনিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার পাটাবোকা কারারখালী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৫ জানুয়ারি রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের ঈশা খাঁ সড়কের মাধবী প্লাজায় যুবলীগ নেতা ইউসুফ মনিকে কুপিয়ে হত্যা করে  দুর্বৃত্তরা। ওই হামলায় তার ছোট ভাই কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইয়াকুব সুমন (৩৬) গুরুতর আহত হন। ২৭ জানুয়ারি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী আবেদা আক্তার শিখা। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার ওসি (তদন্ত) আহসান হাবিব জানান, হত্যাকাণ্ডের রাতেই রক্তমাখা দাসহ সন্ত্রাসী জয়পাল, ইমন খান, আশিক, সিয়াম হোসেন শুভ্র, তানিম ও রাব্বিকে গ্রেফতার করে জেলা কারগারে পাঠানো হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তা গোপন রাখা হয়। এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ভোরে একটি প্রাইভেট কারসহ সজিব, রিয়াদ ও রাসেল নামের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সজীব দোষ স্বীকার করেছে। পরে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে সে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি প্রকাশ করেনি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে আসামি সজিব ও রিয়াদ পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা তাদের সহযোগী রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে রাসেলকে শনাক্ত করে পুলিশ তার পিছু নেয়। আসামিরা বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঢাকা থেকে রওনা দেয়। ওই সময় পুলিশের একটি দলও তাদের পিছু নেয়। সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার পাটাবোকা কারারখালী এলাকায় তাদের ধরে ফেলে পুলিশ। ওই সময় আসামিদের সঙ্গে হাতাহাতিতে পরিদর্শক আহসান হাবিব ও উপপরিদর্শক জয়নাল আবেদীন আহত হন। গ্রেফতারের পর আসামিদের থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সজীব দোষ স্বীকার করে। পরে ওই দিন রাতেই জ্যেষ্ঠ বিচারক রফিকুল ইসলাম বারীর কাছে সে জবানবন্দিও দেয়।

শুক্রবার বিকেলে আহসান হাবিব সমকালকে জানান, আসামি সজীব ঘটনায় জড়িতদের নামসহ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার আসামি রিয়াদ ও রাসেলকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। রিমান্ড মঞ্জুর হলে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সদর ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যুবলীগ নেতা ইউসুফ হত্যার ঘটনায় ৮০ ভাগ তথ্যই পুলিশের কাছে রয়েছে। বিষয়গুলো যথাসময়ে সবাইকে জানানো হবে। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম বলেন, পুলিশ গোপনে কাজ করতে পারায় তদন্তে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আসামিদের সম্পর্কে সব তথ্য জানা গেছে। তাদের গ্রেফতার করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।







মন্তব্য করুন