একাদশ সংসদ নির্বাচন

প্রতি জেলায় কমপক্ষে একটি মামলা করবেন বিএনপি প্রার্থীরা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে বিএনপি। সারাদেশের ৬৪ জেলা থেকে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি করে মামলা করার এ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জেলার অন্যান্য প্রার্থীও মামলা করতে চাইলে দলের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হবে না। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব জেলার প্রতিনিধিদের মামলা করতে বলা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচনের ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয়।

গতকাল শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের এক বৈঠকে মামলা করার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপিতে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের দাবি তুলে দলগতভাবে মামলা করার কর্মসূচি ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে সরে এসে প্রতিটি জেলা থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আসন থেকে প্রত্যেক প্রার্থীকে একসঙ্গে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ যতই পক্ষপাতিত্ব করুক না কেন, তাদের দেওয়া তথ্য-প্রমাণকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এলাকায় প্রতিটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের তালিকায় অনেক মৃত, দেশের বাইরে অবস্থানকারী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া ভোটের হিসাব দেখতে গেলেই প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে। ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যালট বই জব্দ করা হলে এবং

তার ওপর বিচারকাজ পরিচালনা হলে তারা ন্যায়বিচার পাবেন। তবে কোনো কারণে ন্যায়বিচার না পেলেও এলাকার ভোটারদের কাছে তাদের অধিকারের জন্য আইনি লড়াই করার বিষয়টি দৃশ্যমান হবে। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে প্রত্যেক জেলায় একটি করে প্রতীকী মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান নেতারা।

এর মধ্যে ভোলা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বরিশাল জহির উদ্দিন স্বপন, পিরোজপুর রুহুল আমিন দুলাল, খুলনা রকিবুল ইসলাম বকুল, সাতক্ষীরা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পটুয়াখালী এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মাগুরা নিতাই রায় চৌধুরী, যশোর অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পাবনা হাবিবুর রহমান হাবিব, সিরাজগঞ্জ আমিরুল ইসলাম খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মো. শাহজাহান মিয়া, ঝিনাইদহ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঝালকাঠি জীবা আমিন খান, জামালপুর শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, ময়মনসিংহ আবু ওহাব আকন্দ, নেত্রকোনা আনোয়ারুল হক, কিশোরগঞ্জ শরীফুল আলম, ঢাকা নবীউল্লাহ নবী ও ইরফান ইবনে আমান অমি, ফরিদপুর শামা ওবায়েদ, হবিগঞ্জে জি কে গউছ, কক্সবাজার লৎফুর রহমান কাজল ছাড়াও অন্যান্য জেলায় মামলা করার জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রায় ৬০ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তিনটি গ্রুপে পৃথকভাবে তারা এ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় প্রায় প্রত্যেক নেতা নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, নির্বাচনে যে প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি হয়েছে তা পৃথিবীর কোথাও হয়নি। কোনো কারণে বিচার বিভাগে তারা সুবিচার না পেলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ডকুমেন্টস হিসেবে এ মামলার গুরুত্ব রয়েছে।

বৈঠকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবু ওহাব আকন্দ, জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, রফিকুল আলম মজনু, জেবা খান, ইরফান ইবনে অমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।