এসএসসির গণিত পরীক্ষা

প্রশ্নে ভুল মুদ্রণেও ছিল ত্রুটি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সারাদেশে একযোগে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গতকাল শনিবার প্রশ্নপত্রে থাকা ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের গলদঘর্ম হতে হয়েছে। আবার ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে মুদ্রণ ত্রুটির কারণেও পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সমকালের কাছে মুদ্রণ ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গতকাল সারাদেশে ছিল আবশ্যিক গণিত বিষয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর পর রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীরা দেখতে পায়, তাদের প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় পাতা পুরোপুরি ফাঁকা। সেখানে কোনো কিছুই ছাপা হয়নি। প্রশ্নপত্র মোট চার পাতার। দ্বিতীয় পাতায় এ মুদ্রণ বিভ্রাট ঘটেছে। পরীক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কক্ষ পরিদর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা বাংলা ভার্সনের প্রশ্নপত্র এনে ওই পাতায় থাকা তিনটি প্রশ্ন ইংরেজিতে রূপান্তর করে মুখে মুখে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেন। তাদের তিনটি প্রশ্ন লিখে নিতে বলা হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের বেশ কিছুটা মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীদের মূল প্রশ্নের ফটোকপি এনে দেওয়া হয়, যেখানে প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে ছাপা হয়েছে। মিরপুর আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মিরপুর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে।

এই কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. মাহবুবুল আলম সমকালকে বলেন, প্রশ্নে মুদ্রণ প্রমাদের বাইরেও জ্যামিতির একটি প্রশ্নই ছিল ভুল। সেটি সমাধান করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা গলদঘর্ম হয়েছে। প্রায় ২৫ মিনিট বা আধাঘণ্টার মতো সময় নষ্ট করার পর তারা বুঝতে পারে, প্রশ্নই ভুল। বাংলা ভার্সনের প্রশ্ন এনে শিক্ষকরাও দেখেন, প্রশ্নটি ভুল। এই ভুল প্রশ্ন আর মুদ্রণ ত্রুটির কারণে যে সময়টুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই সময় পরীক্ষার্থীদের বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। যথাসময়ে তাদের খাতা নিয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান এই অভিভাবক। তিনি জানান, পাশের মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে মনিপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সেখানেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্নপত্রের একাংশ ছাপা হয়নি বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সমকালের কাছে মুদ্রণ ত্রুটির কথা স্বীকার করে বলেন, ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রের কোনো কোনো প্যাকেটে এমনটি ঘটেছে। দেখা গেছে, একটি প্রশ্ন বা দুটি প্রশ্ন ছাপা হয়নি। এটি দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোর্ড থেকে বলে দেওয়া হয়, ভালো প্রশ্ন থেকে ফটোকপি করে দিতে। তিনি বলেন, এটি একটি ত্রুটি বটে। তবে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কারণ বোর্ডের কেউ ছাপা প্রশ্নপত্র দেখতে পারে না। ছাপা হওয়ার পর থেকে পরীক্ষার্থীর হাতে যাওয়া পর্যন্ত কারও প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে বিজি প্রেসের সঙ্গে কথা হয়েছে।

তবে প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি জানেন না বোর্ড চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। করলে শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি দেখা হবে।

এদিকে, গতকাল গণিত পরীক্ষায় সারাদেশে বহিস্কার হয়েছে ৮২ জন। আর ৬ হাজার ৭৫৪ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, শনিবার আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ২৯ জন, চট্টগ্রামে ২, রাজশাহীতে ৬, বরিশালে ২১, সিলেটে ১, দিনাজপুরে ৪, কুমিল্লায় ১৫ এবং যশোর বোর্ডে ৪ পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ২ হাজার ১৮৪ জন, চট্টগ্রামে ৬৭২, রাজশাহীতে ৮২৭, বরিশালে ৬৩৯, সিলেটে ৪৩৮, দিনাজপুরে ৬৫৫, কুমিল্লায় ৫৮২ এবং যশোর বোর্ডে ৭৫৭ জনসহ মোট ৬ হাজার ৭৫৪ এসএসসি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

সূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার আট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসির ধর্ম বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।