দেশের উপজেলাগুলোকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য মাস্টারপল্গ্যান বা মহাপরিকল্পনা তৈরির জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তা ও চলাচলের ব্যবস্থা পরিকল্পিত হতে হবে। কারণ আমরা দেখি যত্রতত্র দালান হচ্ছে। কারণ টাকা হলেই ধানের জমি নষ্ট করে সেখানে দালান করে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো হিসাব-নিকাশ নেই।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়  পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মাস্টারপল্গ্যানে আবাসন, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, কৃষি খামার, শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। যথাযথভাবে এটি করা হলে জনগণ তা গ্রহণ করবে। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণে সরকার পৃথকভাবে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করছে। এতে প্রতিটি উপজেলার আকার, জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে তাদের সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে তার সরকার প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়।

সরকারপ্রধান বলেন, সরকার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে, তাহলে ব্যাপক আকারে দারিদ্র্য নিরসন করা সম্ভব। দারিদ্র্যমুক্ত করা গেলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে গ্রাম ও শহরে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক চাহিদা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, চাষযোগ্য সব জমি যেন চাষের আওতায় আনতে এবং পলল্গীর মানুষের আয় বাড়াতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের পলল্গী এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে সুন্দর বাসস্থান, খেলার মাঠ, হাসপাতাল, ফসলের মাঠ এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থাকবে। এ জন্য ভৌগোলিক অবস্থা, আবহাওয়া, জনসংখ্যার দিক বিবেচনা করে নিজস্ব পরিকল্পনা নিতে হবে।

তিনি তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কেউই অবহেলা করতে পারবে না। বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে।

এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এসএম গোলাম ফারুক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন