ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি কাল

জামায়াত ছাড়া ২০ দলের শরিক ও বাম দলকে আমন্ত্রণ

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি নিয়ে আগামীকাল শুক্রবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক ও বাম দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ঢাকার কোথাও মিলনায়তনের অনুমতি না পেয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গণশুনানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এরই মধ্যে শুনানির সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে জোটটি। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ শুনানি চলবে।

শুনানিতে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জাজেস প্যানেল থাকবে। এতে ঐক্যফ্রন্টের ৬০ প্রার্থী অভিযোগ তুলে ধরবেন। শিগগির ড. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে 'গণরায়' দেবেন। একই বিষয়ে পরে বিভাগীয় শহরেও গণশুনানি হবে।

গণশুনানির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার দু'দফা বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বিকেলে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে স্টিয়ারিং কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, আবদুস সালাম, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার নূরুল আলম বেপারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটিরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে গণশুনানির সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। গণশুনানি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে বেশ কয়েকটি উপকমিটিও গঠন করা হয়। আজ বিকেলেও বৈঠকে বসবেন তারা।

সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে 'প্রতীকী বিচারকমণ্ডলী'র প্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রমুখ থাকবেন। গতকাল বিকেলে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তার চেম্বারে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ ও ড. আসিফ নজরুল সাক্ষাৎ করেন।

জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সমকালকে বলেন, ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত ছিল না। তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। তবে ২০ দলীয় জোটের শরিক ও বাম দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে অংশ নেন জামায়াতের ২২ নেতা। কক্সবাজার-২ আসনের জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তাকে সমর্থন করে বিএনপি। সব মিলিয়ে ২৩টি আসনে জামায়াতের নেতারা ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানিতে ডাক পাননি তারা।

খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। গণশুনানিতে জামায়াতের নেতাদের ডাক না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে জামায়াত। তারা ঐক্যফ্রন্টের শরিক নয়। ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানিতে জামায়াতকে ডাকা না ডাকার কোনো ব্যাপার নেই।

বুধবার বাম নেতাদের অফিসে গিয়ে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গণশুনানিতে অংশ নিতে বাম দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ফোনেও তাদের দাওয়াত দিয়েছেন।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের (খালেকুজ্জামান) নেতা কমরেড খালেকুজ্জামান, বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মুবিনুল) নেতা মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, সুধাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন নান্নু এবং সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানির আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সমকালকে বলেন, গতকালই চিঠি পেয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনকেও শুনানিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা আমন্ত্রিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর ২২ নেতাকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ড. কামাল গণমাধ্যমে বলেছেন, আগে জানলে তিনি ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিতেন না। পরবর্তী সময়ে ড. কামালকে বুঝিয়ে শান্ত করে বিএনপি। ঐক্যফ্রন্ট অটুট রাখতেই অবশেষে জামায়াতকে বাদ দিয়ে গণশুনানি করতে যাচ্ছে বিএনপিও।