নান্দাইলে ফাঁদ পেতে আ'লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নান্দাইলে ফাঁদ পেতে আ'লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মোর্শেদ আলী

বাড়ির কাছের বাজার থেকে ফিরছিলেন মোর্শেদ আলী খান (৫৫)। কিন্তু পথেই যে তার জন্য মৃত্যুফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেটি জানতেন না। জিআই তার দিয়ে রাস্তায় তৈরি ফাঁদে মোটরসাইকেল নিয়ে আটকা পড়েন তিনি। সেখানেই নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মোর্শেদ আলীকে। নির্মম এ ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দত্তপুরে। এ হত্যাকাণ্ডের জেরে মোর্শেদের বিক্ষুব্ধ কর্মী ও স্থানীয়রা বেশ কিছু বাড়ি ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দিয়েছে।

এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোর্শেদ আলী নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কানুরামপুর বাজার থেকে দত্তপুর গ্রামের নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সময় তার সহযাত্রী ছিলেন মজিবুর রহমান ও নাজিম উদ্দিন। পেছন পেছন ফিরছিলেন মোর্শেদ আলীর বড় ভাই সিদ্দিক আলী। কানুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে আসতেই রাস্তার দুই পাশের গাছে জিআই তার দিয়ে তৈরি ফাঁদে আটকা পড়েন মোর্শেদ আলী। পড়ে যাওয়ার পর চারদিকে ঘেরাও করে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয় তার ওপর। কুপিয়ে পাশের একটি ধানের জমিতে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে চলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ওই সময় মোর্শেদ আলীর দুই সহযাত্রীকেও আঘাত করা হয়। পেছনে আসা মোর্শেদ আলীর বড় ভাই সিদ্দিক আলী ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা দেখে চিৎকার শুরু করেন। লোকজন ছুটে আসতে আসতে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে মোর্শেদ আলীকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মোর্শেদ আলীর মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন নিহতের স্বজন, কর্মী ও স্থানীয়রা। কানুরামপুর ও কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেন তারা। কানুরামপুর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি দোকানপাট। খবর পেয়ে নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভাতে গেলে উত্তেজিত জনতার বাধার মুখে পড়ে। পরে নান্দাইল থানা পুলিশ, ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভোট ৫টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে। যে স্থানটিতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটিকে ঘিরে মানুষের ভিড়। কানুরামপুর বাজারের পুড়িয়ে দেওয়া দোকানগুলোতেও ভিড় ছিল।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার ভাতিজা মিল্লাত হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার চাচার কোনো সন্তান নেই। নিজের জীবন আওয়ামী লীগের জন্যই নিবেদন করে কাজ করে যাচ্ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তার চাচা নির্বাচন করার সময় নুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। নুরুল ইসলামের ছেলে সুমন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মিল্লাত হোসাইন আরও বলেন, তার চাচা পরাজিত হওয়ার পর কানুরামপুর বাজারে নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে সুমনরা। এ নিয়ে তার চাচা বাদী হয়ে মামলা করেন। সে কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তার চাচাকে হত্যা করা হয়।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।