শতকোটি টাকার মালিক বক্ষব্যাধি হাসপাতালের হিসাবরক্ষক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ফরিদপুর অফিস

শতকোটি টাকার মালিক বক্ষব্যাধি হাসপাতালের হিসাবরক্ষক

লিয়াকত হোসেন জুয়েল

রাজধানীর মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জুয়েল, তার স্ত্রী লাকি আক্তার চৌধুরী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে শতকোটি টাকার সম্পদ। ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে এত সম্পদের বিষয়ে সম্প্রতি এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত হোসেন জুয়েল ২০০৩ সালে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে হিসাব সহকারী পদে চাকরি শুরু করেন। এর পর থেকেই তার সম্পদের পরিমাণ বাড়তে থাকে। বর্তমানে নিজের, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের নামে তার প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে। সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদের পর জুয়েল, তার স্ত্রী ও স্বজনদের বিভিন্ন সম্পদের বিবরণ দুদকে জমা দেওয়া হয়েছে।

দুদক ও পারিবারিক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী জুয়েলের স্ত্রীর নামে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলায় লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। টেপাখোলার ফরিদাবাদে 'মাহি মাহাদ ভিলা' নামে আরেকটি বিলাসবহুল বাড়িরও মালিক তিনি। সেখানে জুয়েলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাস করেন। শহরতলির বায়তুল আমান এলাকায় পাঁচ কাঠার আবাসিক প্লট রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। রয়েছে নর্থ-চ্যানেল গোলডাঙ্গী চরে এল অ্যান্ড এমএম নামে একটি ইটভাটাও। এ ছাড়া সিঅ্যান্ডবি ঘাটের ওপারে নাজিরপুরে এ অ্যান্ড আর ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটা রয়েছে তার বড় বোন নাসরিন আক্তারের নামে। আর সিঅ্যান্ডবি ঘাট বাজারে ১৭ শতাংশ জমির ওপর একটি দোতলা ভবনের মালিক জুয়েল।

দুদক সূত্র জানায়, এসব সম্পদ ছাড়াও শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুরে জুয়েলের ২৪ কাঠা জমির একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে শহরতলির আমদপুর এলাকার বেরহমপুর মৌজায় রয়েছে ১৭ বিঘা জমি। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনের নামে রয়েছে ১৬টি ছোট কার্গো জাহাজ। আর পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য আছে প্রিমিও ব্র্যান্ডের তিনটি প্রাইভেটকার।

এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস জানার জন্য গত ৩১ জানুয়ারি জুয়েল ও তার স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল দুদক। জুয়েলের ভাই বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুদক আমাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। সেখানে  আমরা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সম্পদের তথ্য জমা দিয়েছি। তিনি নিজের পরিবারের এসব সম্পদ থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

দুদকের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ফরিদপুর জেলার সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, যারা অসৎভাবে অর্থ উপার্জন করেছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা দরকার। এই দুষ্টচক্রকে ঠেকানো না গেলে রাষ্ট্র ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, একজন হিসাবরক্ষক হয়ে এত সম্পদ কীভাবে অর্জন করা যায়, তা নিয়ে সবারই সন্দেহ জাগবে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।