পাঁচ সেকেন্ডের ওস্তাদ

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো

পাঁচ সেকেন্ডের ওস্তাদ

জাহাঙ্গীর আলম

পুরনো কাপড় কেনার ভান ধরে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন আবাসিক ভবনে ঢোকে জাহাঙ্গীর আলম। এরপর কোনো বাসায় তালা লাগানো দেখলেই বাইরে থেকে পুরনো কাপড় বিক্রি করবে কি-না জানতে চেয়ে হাঁক দেয়। কোনো সাড়াশব্দ না পেলে মাত্র ৫ সেকেন্ডে তালা ভেঙে ঢুকে পড়ে ওই বাসায়। ১৫ মিনিটের মধ্যে বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে সঙ্গে থাকা পুরনো কাপড়ের টুকরিতে নিয়ে সটকে পড়ে সে। ৫ বছরে এভাবে শতাধিক চুরি করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল জাহাঙ্গীর। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে সে আটক হয়।

জাহাঙ্গীরকে  জিজ্ঞাসাবাদের পর আরেকজনের বাসা থেকে ১৪৫টি মোবাইল ফোনসেট, ১০৬ জোড়া জুতাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে রেহেনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম চন্দনাইশ থানার পশ্চিম কেশুয়া সিরাজ চেয়ারম্যান বাড়ির মৃত নুরুল ছফার ছেলে ও রেহেনা বেগম পটিয়া উপজেলার জংশনপাড়া গ্রামের জানে আলমের স্ত্রী।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, পুরনো কাপড় কেনার ভান ধরে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক ভবনে চুরি করত জাহাঙ্গীর। মোবাইল ফোন, টিভি থেকে শুরু করে জামা-কাপড়সহ গৃহস্থালি পণ্য চুরি করত সে। চুরির মালপত্র সে নগরীর পুরাতন স্টেশন এলাকার জানে আলমের কাছে বিক্রি করত। জানে আলমের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। জানে আলম পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী রেহেনা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান জানান, জাহাঙ্গীরের কাছে ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার পাইপ থাকে। পাইপটি দিয়েই সে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘরের তালা, আলমারি খুলে ফেলে। মূলত চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকার বিভিন্ন ভবনে সে চুরি করে। সেজন্য সকাল ১০টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সময় বেছে নেয়। বিভিন্ন বাসা থেকে চুরি করা মালপত্র জাহাঙ্গীর নিয়ে যায় জানে আলমের বাসায়। জানে আলম পুরাতন স্টেশন এলাকায় পুরনো জিনিসের আড়ালে চোরাই মালপত্র বিক্রি করে থাকে।