'চাবি-জুতা ফেলেই দৌড় দেই'

রক্তাক্ত ক্রাইস্টচার্চ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

বন্দুকধারীর হামলার সময় নিউজিল্যান্ডের আল নূর মসজিদের ভেতরেই ছিলেন আফসানা আক্তার রিতু। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। এক বছর আগে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ৯ মাস আগে তিনি সেখানে যান। আল নূর মসজিদ থেকে তাদের বাসা মাত্র এক মিনিটের পথ।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফসানা সেই ভয়াবহ হামলার বিবরণ দিয়েছেন। বাসার কাছেই যেহেতু মসজিদ, তাই তিনি প্রতিদিন সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন। ঘটনার সময় তারা তিন বাংলাদেশি নারী একসঙ্গে ছিলেন।

আফসানা বলেন, আমরা মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ একটা শব্দ পাই। এরপরই দৌড়ে বাইরে আসি। তিনি বলেন, যারা গুলি করছিল, তারা প্রথমে নারীদের কক্ষে আসেনি, প্রথম গিয়েছিল পুরুষদের কক্ষে।

আফসানা বলেন, আমাদের বাসা একদম মসজিদের পাশে। বাসায় আসতে এক মিনিট লাগে। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাসার দিকে আসি।

তবে বাসার চাবি ও জুতা মসজিদে রেখেই চলে আসি। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালিয়ে আসি।

তিনি জানান, তারা যে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে যে ব্যক্তি গুলি করছিল তাকে দেখেননি তিনি। বলেন, আমরা ভয়ে পেছনে তাকাইনি।

এ ঘটনার পর আফসানা এখন খুব আতঙ্কে আছেন। অথচ নিউজিল্যান্ডে তার গত ৯ মাসের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারই অন্যরকম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে থাকতেই আমি জানতাম নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অনেক নিরাপদ। এ পর্যন্ত কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে শুক্রবারের এ ঘটনা তাকে ভীষণ আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে।