রমজান ফিরলেও ফেরেননি ভাই

রক্তাক্ত ক্রাইস্টচার্চ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান অনেকের মধ্যে একজন রমজান আলী। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রমজান আলী স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বন্দুকধারীর গুলিতে আমার আশপাশে অনেকেই মারা গেছেন। ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সম্ভবত আমিই শেষ ব্যক্তি। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে বের করে এনেছেন। খবর বিবিসির

ফিজির বংশোদ্ভূত রমজান আলী ১৯৮৯ সালে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। তবে গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন প্রায় চার লাখ মানুষের শহর ক্রাইস্টচার্চে।

৬২ বছর বয়সী রমজান আলী বলেন, হ্যাগলি পার্কের ওই মসজিদে আমরা নিয়মিত শুক্রবারের নামাজ আদায়ে আসি। আমি দেখি মসজিদের দুই দরজা থেকে লোকজন ছোটাছুটি করে ভেতরের দিকে আসছেন। এত সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে দুই দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে বন্দুকধারী প্রধান দরজা দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করছে। তবে মসজিদে প্রবেশের আরও দুটি ভিন্ন পথ রয়েছে বলে জানান আলী। তিনি বলেন, আমি একটি বেঞ্চের পেছনে থাকলেও আমার পা দেখা যাচ্ছিল। এ সময় মসজিদে অন্তত তিনশ' মুসল্লি ছিলেন।

আলী বলেন, একপর্যায়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য গুলি থামলেও পরে আরও বেশি গুলিবর্ষণ হতে থাকে। পাশে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও হামলাকারী আমার সামনে ফের ওই ব্যক্তির বুকে গুলি করে।

আমিই মনে হয় বেঁচে ফেরা সর্বশেষ ব্যক্তি উল্লেখ করে রমজান আলী বলেন, আমি বেঁচে ফিরলেও আমার ভাই আশরাফ নিখোঁজ রয়েছেন। চারপাশে মরদেহ দেখেছি। আমি আমার ভাইকে দেখিনি। আশা করি সে বেঁচে আছে। এ ছাড়া হামলায় তার চাচাতো বোনের জামাই ও এক বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এখন তাদের খুঁজে ফিরছেন।