আজ চৈত্রসংক্রান্তি

বিদায় ১৪২৫

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

'বর্ষ হয়ে আসে শেষ, দিন হয়ে এল সমাপন,/চৈত্র অবসান-/গাহিতে চাহিছে হিয়া পুরাতন ক্লান্ত বরষের/সর্বশেষ গান' - আজ সেই পুরনো বছরের সর্বশেষ গান গাওয়ার দিন, চৈত্র অবসানের দিন। আজ চৈত্রসংক্রান্তি। ১৪২৫ বঙ্গাব্দের শেষ দিন। আজকের এ দিনটি মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটবে নতুন বছরের নতুন সূর্যোদয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত প্রাচীন গ্রন্থ 'সূর্যসিদ্ধান্ত' থেকে নক্ষত্রমণ্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ মাস চৈত্রের নাম রাখা হয় চিত্রা নক্ষত্রের নামে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে, বাংলা মাসের শেষ দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়। গ্রীষ্ফ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে আকুল কৃষকরা চৈত্র মাসজুড়ে কামনা করেন- বৃষ্টি নামুক। যাতে অসহনীয় পরিবেশ থেকে মানুষের মুক্তি ঘটে আর চাষাবাদের অনুকূল পরিস্থিতিও দেখা দেয়। সূর্য তার রুদ্ররূপে উপস্থিত হয় এ সময়। চৈত্রসংক্রান্তিতে নানা উপচারের নৈবেদ্য দিয়ে তাকে তুষ্ট করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বাংলাপিডিয়ায় চৈত্রসংক্রান্তির আচার বিষয়ে বলা হয়েছে, অতীতে চৈত্রসংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের অবস্থাপন্ন গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়েজামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসতেন। গ্রীষ্ফ্মের তাপদাহেও আনন্দ-উৎসবের

বন্যা বয়ে যেত। নগর সভ্যতার বিকাশে গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ হারিয়ে গেছে। তবে ইদানীং ভিন্ন আদলে শহরাঞ্চলেও চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব বা মেলা বসে। লোকরীতি অনুযায়ী এইদিন ঘরদোর লেপাপোছা হয়, লেপা হয় গোয়ালঘরও। সকালেই গোয়াল থেকে গরু বের করে গোসল করানো হয়। আমিষ নিষিদ্ধ এই দিন। অবশ্য কেউ করলেও তা জিয়ল অর্থাৎ কই, মাগুর, শিং মাছের ঝোল হতে হবে। নিরামিষ শাকসব্জির সঙ্গে এদিন সাত তিতে রান্না করা হয়। ভাজা হয় বারো বা ততধিক শাক। কৃষি সংস্কৃতির অঙ্গাঙ্গী লোকউৎসব এই চৈত্রসংক্রান্তি।

চৈত্রসংক্রান্তিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় প্রস্তুতি নেয় পহেলা বৈশাখের হালখাতা উৎসবের। এ উৎসবে নিকোনো পরিচ্ছন্ন বিপণি অঙ্গন, ধূপ-ধুনোর সুগন্ধি আমোদিত করে রাখে ঘরকে। এ সময় অতিথি এলেই গোলাপজল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাকে। খরিদ্দারদের কাছ থেকে সারা বছরের বকেয়া টাকা তুলতে হালখাতা উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে চৈত্রসংক্রান্তি উদ্‌যাপনের রেওয়াজ কত শত বছরের, তা গবেষণার বিষয়।

পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুনকে বরণ করে নিতে এখন দেশজুড়ে চলছে নানা প্রস্তুতি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন করছে চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণের নানা আয়োজন। আজ শনিবার বর্ষবিদায়ের বড় আয়োজনটি যৌথভাবে করছে চ্যানেল আই ও সুরের ধারা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ চৈত্রসংক্রান্তি অনুষ্ঠান সূর্যাস্ত থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে এ অনুষ্ঠান। এবারের আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড আয়ুশ লিভার।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের আয়োজনে এবং শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে চৈত্রসংক্রান্তি ১৪২৫ উদ্‌যাপন করা হবে। অনুষ্ঠানমালায় থাকছে মুড়ি-মুড়কি বিতরণ, সরোদ বাদন, দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তি।