লন্ডনে বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

উদ্বোধনী দিনে রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের গল্প

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন

উদ্বোধনী দিনে রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের গল্প

রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'ব্লোসমস ফ্রম অ্যাশ'-এর পোস্টার - সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। গত বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের রিচমিক্স সেন্টারে পর্দা ওঠে এ উৎসবের। অতিথিদের লালগালিচায় অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সংস্কৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গনের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যোগ দেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

লন্ডন বেঙ্গলি ফেস্টিভ্যালের এটি চতুর্থতম আয়োজন। ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা মুনসুর আলী বলেন, বাঙালি অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং তাদের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ ফেস্টিভ্যাল যাত্রা শুরু করে। সাধারণত বাংলাদেশ কিংবা কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতারা যুক্তরাজ্যের দর্শকদের কাছে তাদের কাজগুলো উপস্থাপনের সুযোগ পান না। লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তাদের জন্য পল্গ্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

তিন দিনব্যাপী এই বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবের শুরুতে প্রদর্শিত হয় প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র 'ব্লোসম ফ্রম অ্যাশ'। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আলোচিত এই প্রামাণ্যচিত্রের অভিষেক ঘটল। এ উৎসবের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে ছুটে আসেন 'ব্লোসম ফ্রম অ্যাশ'-এর লেখক ও পরিচালক নোমান রোবিন।

প্রায় দেড় ঘণ্টার এ প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান দুঃসহ জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। সেইসঙ্গে শত শত বছর ধরে বর্তমান মিয়ানমারসহ ভারতবর্ষে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। এতে প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত আর নিখুঁত পরিবেশনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে সবিস্তারে।

সাম্প্রতিক সময়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গার মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে আসার গল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে তাঁদের আশ্রিত জীবনের করুণ কাহিনী দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কাটে। দর্শকদের অনেকেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এমন দুর্দশার চিত্র দেখে আবেগঘন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। এমন জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র দেখার সুযোগ করে দেওয়ায় তারা লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক নোমান রোবিন।

উদ্বোধনী পর্বে ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা মুনসুর আলী বলেন, বাংলা ভাষা ও বাংলা চলচ্চিত্র-সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন। বাংলা ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন যেকোনো চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শন করা হয়।

অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার জুলকার নাইন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের সাহায্যে সর্বোচ্চ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে চায় বাংলাদেশ।

ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের সেক্রেটারি জন গারউড বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। কমিউনিটির যে কোনো উদ্যোগে তারা পাশে থেকে আনন্দ পান। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর আয়াস মিয়া আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

আজ শনিবার পর্যন্ত চলবে এবারের উৎসব। ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার প্রদর্শিত হয় 'দ্য হি উইদাউট হিম'। একই দিন প্রদর্শিত হবে 'রেইনবো জেলি'। শেষ দিন শনিবার প্রদর্শিত হবে কলকাতার দেয়ালি মুখার্জি পরিচালিতে আলোচিত শর্টফিল্ম 'তিন মুহূর্ত'। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিচালক দেয়ালি মুখার্জি উপস্থিত থাকবেন এবং অনুষ্ঠিত হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। সবক'টি প্রদর্শনী পূর্ব লন্ডনের রিচমিক্স সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হবে।

লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের সমন্বয়ক হিসেবে আছেন দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের শেরিফ লিজ গ্রিন ও গ্রেটার লন্ডন অথরিটির সাবেক মেম্বার মুরাদ কুরেশী।