ডিআইজি মিজানের সম্পদ অনুসন্ধানে নতুন কর্মকর্তা

অডিও রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

পুলিশের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নতুন কর্মকর্তা নিযুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার এক আদেশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কিত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে বাদ দিয়ে পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশে বরখাস্ত পরিচালক বাছিরের কাছ থেকে দ্রুত নথিপত্র বুঝে নিয়ে বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রম তদারক করবেন দুদক মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান। অন্যদিকে, ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফোনে ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক বাছিরের কথোপকথনও (ভাইরাল অডিও রেকর্ড) যাচাই করা হবে। এ লক্ষ্যে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে ফাইল দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এ ব্যাপারে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। অনুসন্ধানের সময় ফোনে মিজান-বাছিরের কথোপকথনে তাদের কণ্ঠ শনাক্ত

করতে প্রয়োজনে বিশেষ কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে। কথোপকথনে ব্যবহূত মোবাইল ফোন নম্বরও শনাক্ত করা হবে। এসব অনুসন্ধানের পর এ নিয়ে কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করা হবে। গতকাল সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, পরিচালক এনামুল বাছিরকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে নয়, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তথ্য পাচার ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত কাজের জন্য। গতকাল ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকরা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাময়িক বরখাস্ত দুদক পরিচালক এনামুল বাছির নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে ভুল ও মিথ্যা খবর পরিবেশন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বেসামাল ও অশ্নীল কথাবার্তাও বলেন। গতকাল তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসার পর সাংবাদিকরা তাকে সালাম দিলে বলেন, 'আপনাদের সালাম নেওয়া যাবে না। কথা বলা যাবে না। আপনারা ভুল, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেন। যাচাই করেন না।' এরপর তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে এমনসব কথা বলেন, যা ছাপার অযোগ্য। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি জানান, ঘুষের কারণে নয়, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তথ্য পাচারের অভিযোগে। তদন্তের পর জানা যাবে, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ। পরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথাও বলেন, 'আমাকে বাঁচান।' গত বছরের শুরুর দিকে অস্ত্রের মুখে মরিয়ম ইকোকে তুলে নিয়ে বিয়ে করা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। পরে দুদক তার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি মিজান ও তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পান। পরে হঠাৎ করেই অভিযোগটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় পরিচালক বাছিরকে। তিনি ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।