বিশেষজ্ঞ কলাম

ভারতকে মোকাবেলায় প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

রিকি পন্টিং

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনতে পারে ভারত। তিন পেসার নিয়ে খেলতে পারে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের বাউন্সারে অসি টপঅর্ডার ব্যাটস্যানদের খাবি খেতে দেখার পর ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই বিষয়টি মাথায় রেখেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ত্রয়ী ওশানে থমাস, শেলডন কটরেল ও আন্দ্রে রাসেলের এক্সপ্রেস গতি আর শরীর ধেয়ে আসা শর্ট বলের সামনে ৩৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। এটিই ভারতকে দুই লেগ স্পিনারের বদলে তিন পেসার খেলাতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আমরা জানি, বুমরাহ নতুন বলে খুব ভালো একজন বোলার। সে তার ডেলিভারি লিস্টে কিছু শর্ট বল ও কিছু ফুল লেন্থ বল রাখবে আমি নিশ্চিত। ভুবনেশ্বরের গতি বা বাউন্সার দিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তার বলে খুব বেশি বাইট (কামড়) থাকে না। তবে হার্দিক পান্ডিয়া গতি দিয়ে কিছুটা ভোগাতে পারে। সব দিক বিচার-বিশ্নেষণ করে একটা পরিকল্পনা হয়তো করে রেখেছে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট।

তারা একজন স্পিনার খেলালে অলরাউন্ডার কেদার যাদবের অফস্পিন কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে। সেদিক থেকে দু'জন স্পিনারই পাচ্ছে ভারত। পাশাপাশি তৃতীয় পেস বোলারও খেলাতে পারবে। অস্ট্রেলিয়া দল এসব নিয়ে হয়তো চিন্তায় আছে। তবে আমি নিশ্চিত ছেলেরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরুতে যে ধাক্কাটা অস্ট্রেলিয়া খেয়েছে তা ভারতের বিপক্ষে জেগে ওঠার বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এটা ওয়েক আপ কল হিসেবে দেখতে চাই। বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচে চাপে পড়লে কী করে তা থেকে বেরোতে হয়, সেটা জানার জন্য এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হওয়া জরুরি ছিল। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের জন্য এটা একটা শেখার বিষয়, আশা করছি তারা ভালোভাবেই ফিরে আসবে। উসমান খাজা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা নিশ্চয়ই বিষয়টি অনুধাবন করেছে। খাজা ও ম্যাক্সওয়েল ওই ম্যাচে শর্ট বল সামলাতে না পেরে অল্প রানেই আউট হয়ে গিয়েছিল।

আমি বুঝতে চাই ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যাটসম্যানরা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। সবসময় ঠিকভাবে খেলতে পারাটাই মুখ্য নয়। চাপের সময় চিন্তার ধরনও বাজে শট খেলতে প্রভাবিত করে। তাই কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলতে পারাও একটা চ্যালেঞ্জ। উসমানের হেলমেটে আবারও বল লেগেছে। গত কয়েক সপ্তাহে এটা বেশ কয়েকবার হলো। আমি জানি না সে আসলে বিপর্যস্ত কি-না। একজন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানের সামনে ১৪০ কিলোমিটার গতির নতুন বলে ব্যাট করার চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। এ রকম স্পেলের সামনে পড়লে টিকে থাকার একটা উপায় বের করে নিতে হয়। কারণ সারাদিন ধরে এ ধরে জোরে বল হবে না। শর্ট বলে নাস্তানাবুদ হয়ে খাজা ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে আউট হয় আর ম্যাক্সওয়েল মাত্র দ্বিতীয় বলেই হুক করতে গিয়ে সাজঘরে ফেরে। ম্যাক্সওয়েলের জন্য এটা স্বভাববিরুদ্ধ শট। সে এমনিতেও ভালো পুল বা হুক খেলতে পারে না। এখন জানতে হবে তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কী ভাবছে। শর্ট বল মোকাবেলায় তাদের পরিকল্পনা কী? এরা সবই ভালো খেলোয়াড়, আমার বিশ্বাস যে, কোনো কঠিন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের আছে।

লেখক: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক