মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আর নেই

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আর নেই। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবং বাদ আসর শান্তিনগরের বাসভবন সংলগ্ন মসজিদে জানাজা শেষে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। শান্তিতে নোবেলজয়ী

অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছোট ভাই মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মাইলো ফাইব্রোসিসে (রক্তের ক্যান্সার) ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে অপূর্ব জাহাঙ্গীর। গত সোমবার থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাব, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), জাতীয় পার্টিসহ (জাফর) বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

গতকাল সকালে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মরদেহ প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তার জানাজায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।

মুহাম্মদ ইউনূস প্রয়াত ছোট ভাই সম্পর্কে বলেন, তার চিন্তার শেষ ছিল না। জাহাঙ্গীর সব সময় নানা পরিকল্পনার মধ্যে থাকত। মৃত্যুর আগেও আগামী বছর, তার পরের বছর সে কী কী কাজ করবে, তা পরিকল্পনা করে রেখেছিল।

আনিসুজ্জামান বলেন, নানামুখী কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তার কাজের জন্যই আমরা তাকে চিরদিন মনে রাখব।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, টক শোতে তিনি কাউকে আক্রমণ করতেন না; সুন্দরভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতেন।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, তরুণ বয়সে দৈনিক বাংলায় তিনি যেসব প্রতিবেদন করেছেন, যে শক্তি নিয়ে কাজ করেছেন; তা আজকের তরুণদের মধ্যে দেখা যায় না।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি রাজনীতি ও অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখতেন। দলনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি ও সমস্যা সমাধানে তার মৌলিক চিন্তা অনেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। চট্টগ্রাম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং সাংবাদিকতায় পুনরায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। ১৯৭০ সালে 'দৈনিক পাকিস্তান' (পরে দৈনিক বাংলা)-এ যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় আসেন। ১৯৮০ সালে সক্রিয় সাংবাদিকতা ছেড়ে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-পিআইবিতে সাংবাদিক প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সালে তিনি গড়ে তোলেন বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা সেন্টার অফ ডেভেলপমেন্ট কম্যুনিকেশন। আমৃত্যু তিনি এর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর দেশের প্রথম সরাসরি টেলিভিশন টকশো 'অভিমত'-এর সঞ্চালক ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল।