প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

কোন্দলে জড়িত মন্ত্রী-এমপিরা আর মনোনয়ন পাবেন না

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

দলের মধ্যে কোন্দলে জড়িত মন্ত্রী-এমপিদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, উপজেলাসহ সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব এমপি নৌকার প্রার্থীদের বিরোধিতা করেছেন, তারা আগামীতে দলের মনোনয়ন পাবেন না। নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয়ে যারা এলাকায় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলার সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নৌকা মার্কা নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু নিজ এলাকায় এখন নৌকার বিরোধিতা করছেন- এটা তো আমাদের দেখতেই হবে। এটা সহ্য করা হবে না। আগামীতে তারা দলের মনোনয়ন পাবেন না।

প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের তাগিদ দিয়ে বলেন, যার যার এলাকায় যান, দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন। নেতাকর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন, তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করুন। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ সময় সাবেক এক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। বিরোধিতা করতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যে যত বড় নেতাই হোন না কেন, দলের বিরোধিতা কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড়া হবে না। অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় দলের কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন।

এমপিদের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, এবার দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট দেওয়া হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর রাখবেন। উন্নয়ন কাজকে ত্বরান্বিত করুন। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, দেশের জনগণ আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছে। জনগণের সেই ভোটের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে।

নির্বাচনের এতদিন পরও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ন্যাম ভবন ও সরকারি বাড়ি না ছাড়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। নতুন যারা মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে মন্ত্রী হয়ে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার পরও ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট দখল করে রেখেছেন। তাদের পিয়ন, ড্রাইভার, গানম্যানরা এসব ফ্ল্যাটে থাকছেন। ন্যাম ফ্ল্যাট পিয়ন-ড্রাইভারদের জন্য নয়। ন্যাম ভবনের প্রতি যদি মন্ত্রীদের এতই দরদ থাকে, তবে মন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে এখানে চলে আসুন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন সংসদ সদস্যদের দলীয় তহবিলে বার্ষিক চাঁদা বাকি থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বার্ষিক চাঁদা পরিশোধের নির্দেশ দেন। বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান। বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এ কে এম শামীম ওসমান, মমতাজ বেগম প্রমুখ।