কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়লেন রাহুল গান্ধী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী। ভারতের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে গতকাল বুধবার তিনি পদত্যাগ করেন।

নির্বাচনের কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পরপরই পদত্যাগ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন রাহুল। তবে কংগ্রেস নেতারা আশা করছিলেন, তিনি সে সিদ্ধান্ত বদল করবেন। রাহুল গান্ধীর বাবা, দাদি এবং প্রপিতামহ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। খবর বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভির।

গতকাল সাংবাদিকদের রাহুল বলেছেন, 'আমি আর কংগ্রেস সভাপতি নই। আমি ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছি। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির উচিত দ্রুতই বৈঠকে বসা এবং নতুন কংগ্রেস সভাপতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।'

পদত্যাগপত্রে রাহুল লিখেছেন, 'কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে দলের ভোট-ভরাডুবির জন্য আমিই দায়ী। আগামী দিনে দলের এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতার। আর সে জন্যই সব দায় মেনে নিয়ে আমি ইস্তফা দিলাম।' নতুন নেতা বাছাই প্রক্রিয়ায় যে তিনি আর থাকতে চান না- পদত্যাগপত্রে সে কথাও উল্লেখ করেছেন রাহুল। লিখেছেন, 'কখনোই শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য লড়াই করিনি।' তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের খোলনলচে পাল্টাতে হবে এবং এ জন্য দরকার কঠোর সিদ্ধান্ত।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির ওপর তার কোনো 'ঘৃণা বা ক্ষোভ' নেই। তবে ভারত নিয়ে বিজেপির যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা তার শরীরের প্রতিটি কোষ বিরোধিতা করে। বিজেপির নীতি বিভেদ ও ঘৃণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয় ভারতকে কী কী দিতে পারে- পদত্যাগপত্রে তাও উল্লেখ করেছেন রাহুল। লিখেছেন, 'এই ক্ষমতা দখল দেশজুড়ে সহিংসতাকে পৌঁছে দেবে এমন এক মাত্রায়, যা আমরা ভাবতেও পারছি না। তা দেশের দুর্দশা আরও বাড়াবে। কৃষক, বেকার, নারী, উপজাতি, দলিত ও সংখ্যালঘুরাই তার শিকার হবেন সবচেয়ে বেশি।'

২০১৪ সালের নির্বাচনে যখন কংগ্রেস শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, তখনও দলটির সামনে ছিলেন রাহুল গান্ধী। ওই নির্বাচনে ৫৪৩ আসনের মধ্যে কংগ্রেস মাত্র ৪৪টি আসনে জয় পায়। ২০১৭ সালে মা সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেন রাহুল। এ বছর কংগ্রেস পেয়েছে ৫২ আসন। বিপরীতে বিজেপি জিতেছে ৩ শতাধিক আসনে। বিজেপির এই বিপুল বিজয় বিরোধী দল ও পি তদের হতবাক করে তুলেছে। তারা আশা করেছিলেন, নির্বাচনের ফলাফলে পার্থক্য হবে সামান্য।

তবে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। তিনি বলেছেন, 'শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়তে হয়নি। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে আমাদের লড়তে হয়েছে।' এবার দেশটির নির্বাচন কমিশন ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে পারিবারিক আসন আমেথিতেও পরাজিত হয়েছেন রাহুল গান্ধী। তবে কেরালা রাজ্যের একটি আসনে জয় পেয়েছেন রাহুল। কংগ্রেসপ্রধানের পদ থেকে রাহুল সরে দাঁড়ালেও ভারতের রাজনীতিতে তার পরিবারের প্রভাব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আর মা সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভাপতি।