ফেনীতে নুসরাত হত্যা

যৌন নির্যাতন মামলায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গতকাল বুধবার বিকেলে ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আজ বৃহস্পতিবার ওই অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গতকাল নুসরাত হত্যা মামলায় এক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও জেরা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতকে যৌন নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেন। অধ্যক্ষ সিরাজ এ মামলায় গ্রেফতার হন। ওই মামলা তুলে নিতে অধ্যক্ষের নির্দেশে দুর্বৃত্তরা গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১১ এপ্রিল হাসপাতালে মারা যান নুসরাত। সেই মামলারও বিচার শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নুসরাত হত্যায় সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলায় সিরাজ-উদ-দৌলাকে আসামি করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই ইন্সপেক্টর শাহ আলম। ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। অভিযোগপত্রে ২৯ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সকালে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করা হয়। এদিন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নুরুল আমিনের সাক্ষ্যের ওপর জেরা হয়। নুরুল আমিনকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন নয়ন, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, গিয়াস উদ্দিন নান্নু, আবুল বশর, অ্যাডভোকেট নুর ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম মিন্টু।

পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান, হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার দপ্তরি মো. মোস্তফার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।