বিশেষ মন্তব্য

না পাওয়া একটা পাওয়া অনেক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

ফরিদুর রেজা সাগর

এই লেখা যখন আপনারা পড়ছেন তখন সবার জানা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে। সেমিফাইনালে তাদের খেলা হচ্ছে না। অপ্রাপ্তি শুধু এইটুকুই। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য, বাংলাদেশের জন্য প্রাপ্তি অনেক। আন্ডারডগ হিসেবে নয়, যোগ্য দল হিসেবে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে যাবে, এটাই আশা ছিল। বাংলাদেশ দল খেলেছিল ভালো। বৃষ্টির জন্য শ্রীলংকার সঙ্গে খেলার পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছিল। এই পয়েন্ট ভাগাভাগি অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের সঙ্গে হতে পারত। সেদিন বৃষ্টি কোনো সৌভাগ্য বয়ে আনেনি।

আমাদের অধিনায়ক বলেছিলেন, সবচেয়ে শক্তিশালী টিম নিয়ে এবার বাংলাদেশ খেলছে। বিশ্বকাপের আগে এর প্রমাণ ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন। আমরা ভেবেছিলাম, আমাদের পঞ্চপাণ্ডব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে আমরা দেখলাম পঞ্চপাণ্ডবের সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দেরও বাহাদুরি। তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাশরাফি আর মাহমুদুল্লাহর পাশাপাশি এবার নাম উঠে এসেছে সৌম্য, লিটন আর সাইফউদ্দিনের! মুস্তাফিজের নাম তো আগে থেকেই ছিল। ভারতের সঙ্গে খেলায় যখন নামিদামি ব্যাটসম্যানরা সাজঘরে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন সাইফউদ্দিন পেয়ে গেলেন বিশ্বকাপে তার হাফ সেঞ্চুরি। যে খেলোয়াড়টিকে নিয়ে সবাই আগের দিনও বলেছে, বড় খেলা হলে নার্ভাস হয়ে যান সাইফউদ্দিন- সেই সাইফউদ্দিনই দলকে জেতাতে না পারলেও রানের ব্যবধান কমিয়ে আনেন অনেক। সাইফউদ্দিন বিশ্বকাপের সেই খেলোয়াড়, যিনি ডান হাতে বোলিং করেন আর বাঁ হাতে চালান ব্যাট। টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ছোটবেলায় যে মাঠে তিনি প্র্যাকটিস করতেন সেই মাঠে বাঁহাতি খেলোয়াড়দের লেগ সাইডে বাউন্ডারির মাপ ছোট ছিল। অর্থাৎ বাঁহাতি খেলোয়াড়রা সহজে চার মারতে পারে। সে কারণে ছোটবেলা থেকে তিনি প্র্যাকটিস করেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে। আর কী আশ্চর্য, বার্মিংহামের যে মাঠে সাইফউদ্দিন বিশ্বকাপ খেললেন সেই মাঠও আয়তাকার ছিল না! লেগ এবং অফসাইডে চার ও ছয়ের সীমানা দুই রকম ছিল।

তরুণদের জয়যাত্রার কথা এবার বলে শেষ করা যাবে না। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের কল্যাণে কার কী পারফরম্যান্স সবাই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দেখে ফেলেছে। তারপরও সাকিব আল হাসানের এক খেলায় ৫ উইকেট পাওয়ার আনন্দ কিংবা কেবল অর্ধশত পূর্ণ করতে না পারার দুঃখ দর্শকরা সঙ্গে সঙ্গেই ভাগ করে নেন। যেখানে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির কৃতিত্ব ছিল শুধু মাহমুদুল্লাহর, সেখানে যোগ হয়েছেন সাকিব আর মুশফিক। বিশ্বকাপ খেলা শেষে বাংলাদেশ দল যখন দেশে ফিরে আসবে আমরা সবাই ভাবব, আরেকটু হলেই আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম বিশ্বকাপের কাছাকাছি। এই আরেকটু এগোলেই।