বেইজিংয়ে সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বের ফলেই দেশ এগোচ্ছে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বের ফলেই দেশ এগোচ্ছে

বুধবার বেইজিংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে 'সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়' নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের একটি হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আন্তর্জাতিক পরিম লে গেলে অনেকেই জিজ্ঞেস করে। এবারেও এই প্রশ্নটা আমাকে শুনতে হয়েছে যে চীন এবং ভারত- দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখেন কীভাবে? আমি বললাম, আমার অসুবিধাটা কোথায়? আমার তো সকলের সঙ্গেই সম্পর্ক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে নীতি দিয়ে গেছেন, অক্ষরে অক্ষরে সেই নীতি পালন করে এখন কারও সঙ্গে বাংলাদেশের বৈরী সম্পর্ক নেই।' খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সঙ্গে সুম্পর্ক বজায় থাকায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে। বিনিয়োগ তখনই আসে যখন দেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সরকার থাকে। ভাষণে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের সমাধান এবং ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'সারা বিশ্বে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে যুদ্ধ হয়। ভারতীয়রা বাংলাদেশের ব্যাপারে সবাই এক। তাদের পার্লামেন্টে দলমত নির্বিশেষে সবাই ভোট দিয়ে আমাদের স্থলসীমান্ত আইন পাস করেছেন। আমাদের ছিটমহল বিনিময় সারা বিশ্বের কাছে একটা দৃষ্টান্ত। একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এই ছিটমহল বিনিময় করেছি। এভাবে পুরো সমস্যার সমাধান করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করেছে কারা? যারা আমাদের স্বাধীনতা চায়নি, যারা একাত্তরে হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, যারা চক্রান্ত করেছিল। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলব, এরসঙ্গে আমাদের নিজেদেরও কিছু লোক সম্পৃক্ত হয়েছিল। যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই দেশটাকে পঙ্গু করে রাখতে চেয়েছে। এখনও আমরা দেখি সেই ধরনের মানসিকতা যথেষ্ট রয়েছে। যতই ভালো কাজ করি আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, কোনো কিছুতেই তাদের কিছু ভালো লাগে না। আমরা যা-ই করি তারা কোনো ভালো দেখতে পায় না।' তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২৯ বছর এই শ্রেণিটাই ক্ষমতায় ছিল। ওই ২৯ বছরের মধ্যে যে উন্নতি তারা করতে পারেনি আমরা ১০ বছরের মধ্যে তার থেকে বেশি করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন সকলেই বাংলাদেশের প্রশংসা করছে। এটা ধরে রাখতে হবে। প্রশংসা শুনে বসে থাকলে চলবে না। এগিয়ে যেতে হবে। আরও কাজ করতে হবে। আরও পরিশ্রম করতে হবে। তিনি বলেন, চীন ৭০ বছরে সারা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। কাজেই চীনে যারা পড়ালেখা করছে তাদের আমি বলব, এখান থেকেও শিক্ষা নেওয়ার দরকার আছে আমাদের যে, কীভাবে তারা দিনরাত পরিশ্রম করে কাজ করে। চীনের সহায়তায় কর্ণফুলী টানেল তৈরির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বেইজিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বক্তব্য দেন। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ৪০ বছর চীনে থাকা বাংলাদেশি প্রকৌশলী শামসুল হক।

প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিংয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের বেইজিংয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উদ্বোধন পর্বে যোগদান শেষে গতকাল বুধবার সকালে বেইজিং পৌঁছেছেন তিনি।

চীন সরকারের সরবরাহ করা একটি বিমানে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে দেশটির ভাইস ফরেন মিনিস্টার কিং গ্যাং প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ছোট এক শিশু ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে দিয়ায়োতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে নেওয়া হয়। বেইজিং সফরকালে শেখ হাসিনা এখানেই অবস্থান করবেন। শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এখানে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতামূলক আটটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায়ও যোগ দেবেন।

আগামীকাল দিয়ায়োতাই ভবনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি একই স্থানে চীনা প্রেসিডেন্ট আয়োজিত একটি ভোজসভায় যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী ৬ জুলাই দেশে ফিরবেন।