কর ও ভ্যাটের প্রভাব

পাইকারিতে বাড়ল ভোজ্যতেল ও চিনির দাম

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর পাইকারি বাজারে বেড়ে গেছে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম। তবে খুচরা বাজারে বেশিরভাগ দোকানে আগের দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে এ দুটি পণ্যের বাড়তি দাম গুনতে হবে ক্রেতাদের।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজেট পাসের পর মিলগেটে আগের চেয়ে এখন বাড়তি দরে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে পাইকারিতে দাম বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পাইকারি আড়তে পরিশোধিত চিনি প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলে ২ টাকা ও পাম তেলে ৩ টাকা বেড়েছে। তারা বলেন, এবার বাজেটে চিনিতে শুল্ক্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক্ক বাড়ানো হয়েছে। ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছে। যদিও সমন্বয়ের সুযোগ আছে।

এ কারণে দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে এখন প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনি ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগের সপ্তাহে ২ হাজার ৪০০ টাকা ছিল। এ হিসাবে চিনির দর কেজিতে ৪ টাকা বাড়ল। বাজেট পাসের আগে প্রতি ড্রাম (২০৪ লিটার) খোলা সয়াবিন তেল ১৩ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। এখন তা বেড়ে ১৪ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া খোলা পাম তেলের ড্রামে ৬০০ টাকা বেড়ে এখন ১০ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনও পরিবর্তন হয়নি। পাইকারিতে এসব পণ্যের দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে গতকাল আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে রসুন ও আদার দাম। রমজান মাসে এই পণ্য দুটির দাম কম থাকলেও এর পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি চীনা আদা মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। দেশি আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। দেশি রসুন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও আমদানি করা চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে। তবে আগের সপ্তাহের মতোই পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। গোলআলুর দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। এখন প্রতিকেজি আলু ২২ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম হালিতে দুই টাকা বেড়ে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। বাজার ভেদে প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে গরু ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা ও খাসির ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। রুই ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা ও কাতলা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি।