ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল

কমিটির ৫ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতর্কিত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার বেশি ঘুষ লেনদেন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের অভিযোগ উঠেছিল অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে দেশের অন্য কোনো খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে না রাখার জন্যও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য স্কুলটির গভর্নিং বডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় সবাই ফেল করেন। এ পরীক্ষায় ৩০-এর মধ্যে মাত্র সাড়ে তিন নম্বর পাওয়া রুমানা শাহীন শেফা নামের এক প্রার্থীর নিয়োগ চূড়ান্ত করে তৎকালীন গভর্নিং বডি। সাধারণ অভিভাবকরা অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।

গত ২৯ এপ্রিল অধ্যক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির তৎকালীন সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম, গভর্নিং বডির অভিভাবক প্রতিনিধি আতাউর রহমান ও ডা. মজিবুর রহমান হাওলাদার এবং সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী।

পাঁচজনের ওই নিয়োগ কমিটি ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ পদে দুদকের বিতর্কিত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের স্ত্রী রুমানা শাহীন শেফার নিয়োগ চূড়ান্ত করেছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি ঘুষ লেনদেন হয়েছে এ নিয়োগ নিয়ে। রুমানা শাহীন শেফা বর্তমানে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজি। বাকি দুই সদস্য হলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আনোয়ারুল আউয়াল খান। তারা গত জুনে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের কাছ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।