১২ ছাত্রী ধর্ষণ নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে এবার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। গ্রেফতার হওয়া মাওলানা মো. আল আমিন ফতুল্লার মাহমুদনগর এলাকায় অবস্থিত বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার আল আমিনকে তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পর ১০-১২ শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সে। তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার থেকে একাধিক ছাত্রীর ছবি লাগিয়ে বানানো পর্নো ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসার বাইরে ভিড় করেন। গ্রেফতার আল আমিন মাদ্রাসার পাশের একটি মসজিদেরও ইমাম। সে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভূঁইয়াপাড়া এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে।

ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাই স্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনার রেশ না কাটতেই নতুন করে মাদ্রাসা শিক্ষকের এ ঘটনা বেরিয়ে এলো। আল আমিনকে গ্রেফতারের পর গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন র‌্যাব-১১'র অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম ও পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল আজিজ। সাংবাদিকদের র‌্যাব অধিনায়ক কাজী শামসের উদ্দিন বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাই স্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ওই ঘটনার নিউজ আমরা (র‌্যাব-১১) ফেসবুক পেজে আপলোড করেছিলাম। আপলোড করা সেই ভিডিও ফতুল্লার এক নারী তার ফেসবুকে দেখছিলেন। তখন আল আমিনের মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ূয়া তার মেয়ে জানায়, আমাদের হুজুরও তো আমাদের সঙ্গে এমন করে। পরে শিশুটি মাকে বিস্তারিত জানালে তিনি র‌্যাব অফিসে অভিযোগ করেন।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, এর পর র‌্যাব অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ওই শিক্ষার্থী নয়; ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১২ ছাত্রীকে যৌন হয়রানি বা ধর্ষণ করেছে সে। আল আমিন বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের তার রুম ঝাড়ূ দেওয়াসহ কৌশলে ডেকে এনে ধর্ষণ করে।

তিনি বলেন, আল আমিনের মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার তল্লাশি করে প্রচুর পর্নো ভিডিও পেয়েছি। কিছু পর্নোগ্রাফি সে নিজেও তৈরি করেছে। কোনো ছাত্রীর ছবির মাথার অংশ পর্নো ভিডিওর সঙ্গে লাগিয়ে তাদের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে সে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন অন্তত ১০ থেকে ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে তার দাবি, সে আগে এমনটা ছিল না। শয়তানের প্ররোচনায় এমনটা করত।

জানা গেছে, ফতুল্লার মাহমুদনগর এলাকার ফারুক হোসেনের একটি সেমিপাকা বাড়ি ভাড়া নিয়ে ২০১৫ সালে বাইতুল হুদা নামে একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে আল আমিন। ওই মাদ্রাসায় সে ছাড়াও দুই পুরুষ শিক্ষক ও ৪ নারী শিক্ষক রয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মাদ্রাসাটি খোলা থাকত। অনাবাসিক মাদ্রাসায় ৫০ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করত। মাদ্রাসার ভেতরেই একটি কক্ষে আল আমিন স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে বসবাস করত। তবে আল আমিনের এমন অপকর্মের বিষয়টি তার স্ত্রী বা অন্য শিক্ষকরা কেউ টের পাননি। মাদ্রাসার ভেতরে আল আমিন অধ্যক্ষ হিসেবে নিজের ব্যবহূত কক্ষে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে। এ জন্য আল আমিন দুপুরে টিফিনের সময় অথবা মাদ্রাসার ছুটির পরের সময় বেছে নিত।