মুসলিম সম্প্রদায়ের বিবাহ নিবন্ধন ফরমের (কাবিননামা) ৪ নম্বর কলামে (ক) যুক্ত করে বরের ক্ষেত্রে 'বিবাহিত', 'বিপত্নীক' ও 'তালাকপ্রাপ্ত কিনা' শব্দগুলো সংযোজন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি একই ফরমের ৫ নম্বর কলাম থেকে কনের বেলায় 'কুমারী' শব্দটি বাদ দিয়ে 'অবিবাহিতা' যুক্ত করতেও বলা হয়েছে।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল  রোববার মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী বিয়ে নিবন্ধন ফরমে (নিকাহনামা) বৈষম্য দূর করা বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেন।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের ৯ ধারার ওই অনুচ্ছেদটি বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পরে ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলও জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে রেজিস্ট্রেশন ফরমের ৫ নম্বর কলাম কেন বৈষম্যমূলক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং ওই কলাম থেকে 'কুমারী' শব্দটি বিলোপ করে ফরমটি সংশোধন করা ও বর সম্পর্কিত কোনো ক্রমিক ফরমে কেন উল্লেখ করা হবে না- রুলে জানতে চাওয়া হয়। জনপ্রশাসন সচিব, ধর্ম সচিব, প্রিন্টিং ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্নিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। অবশ্য রুলের শুনানিতে হাইকোর্টের আইনজীবী বেলায়েত হোসেনকে অ্যামিকাস কিউরি (আইন বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানকারী) হিসেবেও নিয়োগ দেন। শুনানিতে তিনি বলেন, কাবিননামায় ৫ নম্বর কলামে কুমারী শব্দটি থাকা উচিত না। কারণ, এটি ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এগুলো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম শরিয়তে এ ধরনের শর্ত নেই।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।



মন্তব্য করুন