৯ সদস্যের কমিটি

ব্যাংক খাতে সেবার খরচ কমাতে চায় সরকার

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

আবু কাওসার

ব্যাংক খাতে সেবার খরচ কমাতে এবং দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। খরচ কমানো ও কম সময়ে ভালো সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা তৈরির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মাকসুরা নূর এনডিসি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব শিরিন সবনম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই বিভাগের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের একজন প্রতিনিধি। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মতো এত বেশি সার্ভিস চার্জের খÿ পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। এখানে বড় ঋণের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ কিছুটা কম হলেও ছোট ঋণে দিতে হয় হরেক রকম চার্জ। ফলে বড় গ্রাহকের তুলনায় ছোট গ্রাহকের ভোগান্তি বেশি। আবার ঋণের আবেদনের জন্য যেসব ফরম রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো এত জটিল যে গ্রাহকরা বোঝেন না কীভাবে পূরণ করতে হয়। এর ফলে অনেক গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মূলত ব্যাংক খাতে সেবার মান বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে গত ২২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় বর্তমান ব্যাংক খাতের সেবা নিয়ে আলোচনা হয় এবং কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এ বিষয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেছে, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণ যাতে সহজ ও দ্রুততম সময়ে সেবা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করা। এ জন্য অন্যান্য খাতের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, কোন সেবার বিপরীতে চার্জ বা ফি সর্বোচ্চ কত হবে, সে বিষয়ে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও তা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। আবার অনেক সময় নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা কাটা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে কোনো সেবা না নিয়েও গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। এসএমএস বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা না নিলেও গ্রাহকের টাকা কাটা হচ্ছে- এমন অভিযোগ অহরহই শোনা যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো বর্তমানে গ্রাহকদের যেসব সেবা দিচ্ছে, সেগুলো পর্যালোচনা করবে কমিটি। একই সঙ্গে সেবা গ্রহণে ব্যবহূত ফরমগুলো আরও সহজীকরণে কাজ করবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে সুপারিশ করবে কমিটি। ওই প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হবে। কমিটি যেসব সুপারিশ করবে, তা বাস্তবায়নের জন্য পরে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হবে।

একটি সূত্র বলেছে, ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েও কাজ হয়নি। এখন নতুন করে সেবার খরচ ও সময় কমানোর দিকে নজর দিয়ে তা কার্যকর করতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলেছে, এসএমই খাতের সহজ উপায় ও দ্রুততম সময়ে ঋণ পেতে একটি নির্দেশনা রয়েছে। আবেদন হতে হবে বাংলায় এবং এক পৃষ্ঠার, যা আগে ছিল ইংরেজিতে এবং আট থেকে দশ পৃষ্ঠার। জানা যায়, সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহক। মূলত সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর সেবার মান বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সমকালকে বলেন, সরকার উচ্চ পর্যায়ের যে কমিটি গঠন করেছে, তা ইতিবাচক। ব্যাংক খাতে দুর্নীতি বেড়েছে। সেবার মানও ভালো নয়। তবে আরও ভালো হতো যদি কমিটিতে একজন সিনিয়র ব্যাংকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক একজন গভর্নরকে রাখা হতো। তা হলে সমস্যাগুলো আরও গভীরভাবে তুলে আনা সম্ভব হতো।