গর্ভেই নির্ধারিত সন্তানের ব্যক্তিত্ব

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সন্তানের ব্যক্তিত্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো নারী যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, ওই সন্তান ৩০ বছর বয়সে পৌঁছার আগেই 'ব্যক্তিত্ব বৈকল্যে' আক্রান্ত হতে পারে। এ ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি হতে পারে। এমনকি গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় মাঝারি মাত্রার মানসিক চাপে থাকলেও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, সন্তানসম্ভবা নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। মনোবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী 'ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি'তে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি ও এর আশপাশের তিন হাজার ৬০০ নারী ও তাদের সন্তানদের ওপর গবেষণা চালানো হয়। গর্ভাবস্থায় প্রতি মাসে নারীদের মানসিক চাপের মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা করা হয়। এই নারীরা ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে সন্তানের জন্ম দেন। ওই সন্তানদের মানসিক বিকাশের ওপরও নজর রাখেন গবেষকরা। সন্তানদের বয়স ত্রিশে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, তাদের ৪০ জনের মধ্যে মারাত্মক ব্যক্তিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। মানসিক অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। যে মায়েরা গর্ভাবস্থায় দীর্ঘদিন বড় রকম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন, প্রধানত তাদের সন্তানরাই মানসিক সংকটে পড়েছে। গর্ভাবস্থায় যাদের মানসিক চাপ কম ছিল, তাদের সন্তানদের চেয়ে চাপে থাকা মায়েদের সন্তানদের ব্যক্তিত্ব বৈকল্য ঘটেছে অনেক বেশি।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যক্তিত্ব বৈকল্য এমন একটি মানসিক অবস্থা, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের জীবন তো বটেই, অন্যের জীবনেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে। এসব ব্যক্তি অনর্থক এবং অতিমাত্রায় উদ্বেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। তাদের আবেগের ওঠানামার পেছনে কোনো যুক্তি থাকে না, অতিমাত্রায় সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে। এমনকি অনেক সময় সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ ধরনের মানুষ প্রায়ই মানসিক চাপে ভোগে। অনেক সময় তারা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টের অধ্যাপক ড. টরুডি সিনিভারত্নে বলছেন,গর্ভাবস্থায় নারী মানসিক চাপে থাকলে তা নিরসন করা জরুরি। বিবিসি অবলম্বনে।