রংপুর-৩ উপনির্বাচন

প্রচার শেষ কাল ভোট

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯

রংপুর অফিস

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত এবং গতকাল সকালেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শেষ সময়ের জনসংযোগ ও প্রচারণা চালান তারা। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শেষ সময়ে জাতীয় পার্টির রাহাগীর আল মাহি ওরফে সাদ এরশাদ, বিএনপির রিটা রহমান ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে তাদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। রিটার্নিং অফিসার জি এম শাহাতাব উদ্দিন জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নগরীসহ নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল ও মোটরযান চলাচল বন্ধ এবং বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গতকাল নির্বাচনী এলাকার ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে প্রশিক্ষণ (মক) ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটাররা তাদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার মহড়া দিয়েছেন। কীভাবে ইভিএমে ভোট দিতে হয়, ভোটারদের তা দেখিয়ে দেন প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসাররা। নগরীর বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের মক ভোট দিতে দেখা গেছে।

রংপুর-৩ (সদর) আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২০ হাজার ৮২৩ এবং নারী ভোটার দুই লাখ ২০ হাজার ৪০১ জন। নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোট ও পূজা একসঙ্গে চালানোর ঘোষণা সনাতন ধর্মীয়দের :রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট ও পূজা দুটোই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। এ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ আগামীকাল। ওই দিন শারদীয় দুর্গা উৎসবের মহাসপ্তমী হওয়ায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন রংপুরের সনাতন ধর্মীয়রা। বুধবার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও রংপুর সদর আসনের উপনির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করেনি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ওই নির্বাচন বর্জন করবে। তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সনাতন ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে সভা করেন রংপুর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, ডিআইজি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা সভাপতি বাবন প্রসাদসহ অন্য নেতারা। সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে পালনে সনাতন ধর্মীয় নেতাদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয় প্রশাসন। ওই সভা থেকেই ভোট বর্জন না করে পূজা উদযাপন ও ভোটদান একই সঙ্গে চালানোর ঘোষণা দেন তারা।